জাস্টিন ট্রুডো
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কি শুধুই একজন রাজনীতিবিদ, নাকি একজন বৈশ্বিক সেলিব্রিটি? ক্ষমতা ছাড়ার এক বছর পর এই প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কোচেলা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ও প্রেমিকা কেটি পেরির সাথে তার উপস্থিতি এবং সেখান থেকে হাঙ্গেরির রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের অবাক করেছে।
হাঙ্গেরিতে ভিক্টর অরবানের পতনের পর যখন
বিশ্বনেতারা প্রথাগত ভাষায় অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন, তখন ট্রুডো তার প্রতিক্রিয়া জানান
কোচেলার ভিড় থেকে। জাস্টিন বিবারের কনসার্ট দেখার ফাঁকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো
পুনরুদ্ধারের ডাক দেন। উল্টো দিকে, কেটি পেরির সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিতে দেখা
যায়, মাথায় উল্টো ক্যাপ এবং জিন্স পরে নুডলস খাচ্ছেন ট্রুডো—যাকে দেখে সাবেক
কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নয়, বরং একজন ফুরফুরে মেজাজের সেলিব্রিটি মনে হচ্ছিল।
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে
সাধারণত দেখা যায়, ক্ষমতা ছাড়ার পর তারা বড় কোনো ল ফার্মে যোগ দেন অথবা ব্যবসায়িক ও
সামাজিক কাজে নিভৃতে সময় কাটান। কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো (৫৪) বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ
ভিন্ন পথ। পপ তারকা কেটি পেরি, প্রিন্স হ্যারি কিংবা অলিম্পিক জয়ী আইলিন গু-দের সাথে
তার চলাফেরা তাকে যেন এক ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড’-এ পরিণত করেছে।
টরন্টো স্টারের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুসান ডেলাকোর্ট বলেন, "কানাডিয়ানরা সাধারণত
প্রত্যাশা করে তাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা আড়ালে চলে যাবেন। কিন্তু ট্রুডো প্রথম প্রধানমন্ত্রী
যার বিশাল সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার রয়েছে। তিনি এখনও বেশ তরুণ এবং জীবনের সেরা সময়টা
উপভোগ করছেন।"
জাস্টিন ট্রুডোর এই সেলিব্রিটি ইমেজ নতুন
কিছু নয়। তিনি কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর পুত্র, যাকে দেশটির প্রথম
‘রক-স্টার’ রাজনীতিবিদ বলা
হতো। বাবার সেই উত্তরাধিকার আর নিজের সহজাত ক্যারিশমা মিলিয়েই ট্রুডো তার রাজনৈতিক
ক্যারিয়ার গড়েছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের
ফিচার বা ‘রোলিং স্টোন’-এর কভারে তার উপস্থিতি যতটা প্রশংসা কুড়িয়েছে,
ততটা সমালোচনার জন্মও দিয়েছে। ক্ষমতার শেষ দিকে ট্রুডোর জনপ্রিয়তা কমলেও তার অর্জনগুলোকে
খাটো করে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। লেখক স্টিফেন মাহেরের মতে, ট্রুডো শিশু দারিদ্র্য বিমোচন
এবং আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় করেছেন, তা কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ
দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তবে ভারতের বিতর্কিত সফর কিংবা আদিবাসী দিবসে সার্ফিং
করার মতো ঘটনাগুলো তার ‘সিরিয়াস’ ইমেজে কিছুটা
আঘাত হেনেছিল।
বর্তমানে কানাডার রাজনীতিতে যখন মার্ক
কার্নির মতো নেতারা নিজেদের ‘প্র্যাগমেটিক টেকনোক্র্যাট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
করার চেষ্টা করছেন, ট্রুডো তখন নিজেকে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এক বর্ণিল জীবনের দিকে।
ডাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতো সিরিয়াস প্ল্যাটফর্মেও যখন তিনি ‘সফট পাওয়ার’ নিয়ে কথা বলেন,
তখন সামনের সারিতে বসে থাকেন কেটি পেরি। বিশ্লেষকদের মতে, জাস্টিন ট্রুডোর টিম খুব
সুক্ষ্মভাবে তাকে একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি রাজনীতিতে থাকুন
বা না থাকুন, বিশ্বজুড়ে তার নাম এবং খ্যাতি বজায় থাকবে। তবে একজন সফল রাজনীতিবিদ নাকি
একজন ‘পপ স্টার বয়ফ্রেন্ড’—কোন পরিচয়ে ইতিহাস
তাকে মনে রাখবে, তা সময়ই বলে দেবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

