Logo

আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারে অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৯

মিয়ানমারে অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমল

অং সান সু চি

মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। দেশটির নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের পক্ষ থেকে ঘোষিত এক সাধারণ ক্ষমার আওতায় সু চি এই সুবিধা পাচ্ছেন।  শুক্রবার সু চির আইনজীবী ও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী অং সান সু চি দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো একাধিক অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সু চির আইনজীবী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সরকার তাঁর মক্কেলের সাজার মেয়াদ মোট মেয়াদের ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে সাজার বাকি অংশ তিনি কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটানোর সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

উল্লেখ্য, সু চির সমর্থক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে।

মিয়ানমারে প্রথা অনুযায়ী জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং এবার ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দীর জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গত ছয় মাসে এটি এ ধরনের তৃতীয় পদক্ষেপ।

প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধীর নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি একটি গণ-আদেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে অন্তত ১৩০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজকের আদেশের ফলে তাদের একটি বড় অংশ প্রাণভিক্ষা পেতে পারেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। এর ফলে দেশটিতে ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গত ৩ এপ্রিল একটি নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও জাতিসংঘ এই নির্বাচনকে প্রহসন বলে অভিহিত করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একের পর এক হামলায় জান্তা বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ায় বহির্বিশ্বের চাপ কমাতে এবং জনমনে কিছুটা নমনীয় ভাব তৈরি করতে এই দফায় বিপুল সংখ্যক বন্দি মুক্তি ও সু চির সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন