মেলানিয়া ট্রাম্প যা খুশি বলতে পারেন: জিমি কিমেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৩
জিমি কিমেল
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় লেট-নাইট টক শো হোস্ট জিমি কিমেল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এক নতুন ও চরম সংঘাতপূর্ণ মোড় নিয়েছে। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলার ঘটনার কয়েক দিন আগে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে করা একটি কৌতুককে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। মেলানিয়া ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই কিমেলকে বরখাস্ত করার দাবি জানালেও, কিমেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ক্ষমা চাইবেন না।
গত বৃহস্পতিবার নিজের শো-তে একটি ব্যঙ্গাত্মক
নাটিকার সময় জিমি কিমেল আসন্ন হোয়াইট হাউস ডিনারের এমসি (সঞ্চালক) হিসেবে অভিনয় করছিলেন।
সেখানে তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পের উপস্থিতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাদের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া এখানে আছেন।
আপনাকে অত্যন্ত সুন্দর দেখাচ্ছে মিসেস ট্রাম্প, আপনি একজন ‘প্রত্যাশিত বিধবা’র মতো উজ্জ্বল হয়ে আছেন।”
এই রসিকতার দুই দিন পর শনিবার রাতে হোয়াইট
হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও এতে কোনো প্রাণহানি
হয়নি, তবে ঘটনাটি পুরো আমেরিকাকে স্তব্ধ করে দেয়। ট্রাম্প দম্পতির দাবি, কিমেলের এই
ধরনের বক্তব্য সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ
(সাবেক টুইটার) মেলানিয়া ট্রাম্প এক দীর্ঘ বিবৃতিতে কিমেলকে আক্রমণ করেন। তিনি কিমেলের
আচরণকে “জঘন্য এবং প্রতিহিংসামূলক”
আখ্যা দিয়ে বলেন, “কিমেলের ঘৃণ্য ও সহিংস অলঙ্কারশাস্ত্র আমাদের দেশকে বিভক্ত করার জন্য
তৈরি। তার মনোলগ কোনো কমেডি নয়; তার শব্দগুলো ক্ষয়িষ্ণু এবং আমেরিকার রাজনৈতিক অসুস্থতাকে
আরও গভীর করে তোলে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এবিসি নেটওয়ার্কের উচিত কিমেলের বিরুদ্ধে
কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং তাকে আর মানুষের ড্রয়িংরুমে ঘৃণা ছড়ানোর সুযোগ না দেওয়া।
কয়েক ঘণ্টা পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব
প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ
কিমেলকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানান। তিনি লেখেন, “জিমি কিমেলকে ডিজনি এবং এবিসি থেকে অবিলম্বে
ছাঁটাই করা উচিত। এটি রসিকতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে, এটি সরাসরি সহিংসতার আহ্বান।”
সোমবার রাতের শো-তে কিমেল এই আক্রমণের
পাল্টা জবাব দেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে। তিনি বলেন, “আপনারা কি জানেন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন
দেখেন ফার্স্ট লেডি আপনার চাকরি খাওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, তখন কেমন লাগে?
আমাদের সবার সাথেই এমনটা কমবেশি ঘটে, তাই না?” কিমেল পয়েন্ট ধরে ব্যাখ্যা করেন যে, তিনি
এই কৌতুকটি করেছিলেন হামলার তিন দিন আগে।
তিনি বলেন, “এটি ছিল স্রেফ তাদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে
একটি হালকা রসিকতা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স প্রায় ৮০, আর মেলানিয়া আমার চেয়েও কম বয়সী।
তিনি যখন ট্রাম্পের সাথে থাকেন তখন তার মুখে যে ‘আনন্দের আভা’ দেখা যায়, তা নিয়ে আমি
মজা করেছি। এটি কোনোভাবেই হত্যার উসকানি ছিল না এবং তারা সেটা ভালো করেই জানেন।”
কিমেল আরও যোগ করেন, “আমি একমত যে সহিংস বক্তব্য বর্জন করা উচিত।
আর সেই আলোচনাটা মেলানিয়ার উচিত নিজের স্বামীর সাথে শুরু করা। ডোনাল্ড ট্রাম্প যা খুশি
বলতে পারেন, আপনি পারেন এবং আমিও পারি। কারণ আমেরিকার প্রথম সংশোধনী আমাদের সেই বাকস্বাধীনতা
দিয়েছে।” জিমি কিমেল এবং ট্রাম্প পরিবারের এই সংঘাত নতুন কিছু নয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরেও এফসিসি চেয়ারম্যান
ব্রেন্ডন কার-এর হুমকির মুখে এবিসি কিমেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল। তবে বাকস্বাধীনতার
স্বপক্ষে তীব্র জনমতের কারণে নেটওয়ার্ক তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এদিকে ট্রাম্পের
সমালোচকরা বলছেন, যিনি নিজে অতীতে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হামলার পরোক্ষ উসকানি দিয়েছেন,
তার মুখে কিমেলের কমেডি নিয়ে অভিযোগ মানায় না। রিপাবলিকান শিবিরের মেগান ম্যাককেইনও
এই বিতর্কে জড়িয়ে কিমেলের সমালোচনা করেছেন।
হোয়াইট হাউস ডিনারের সেই হামলার ঘটনার
পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। কিমেলের এই রসিকতা এবং ট্রাম্প
দম্পতির তাকে বরখাস্ত করার দাবি— এই দুইয়ের লড়াই এখন স্রেফ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ
নেই, বরং তা আমেরিকার বাকস্বাধীনতা বনাম রাজনৈতিক শালীনতার এক বৃহত্তর তর্কে রূপ নিয়েছে।
এবিসি নেটওয়ার্ক শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

