নারী আইএস সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরলেই গ্রেপ্তার: টনি বার্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২০:১৩
সিরিয়ার বন্দিশিবিরে বছরের পর বছর আটকে থাকার পর অবশেষে নিজ দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট বুক করেছেন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট ১৩ জন নারী ও শিশু। তবে তাদের এই প্রত্যাবর্তনে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। বরং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, মেলবোর্ন বা সিডনির মাটি ছোঁয়া মাত্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চার জন নারী ও নয় জন শিশুর একটি দল টিকিট বুক করেছে।
এরা সেই সব মানুষ যারা স্বেচ্ছায় একটি ভয়ংকর সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়ার মতো জঘন্য
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং নিজেদের সন্তানদের এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন।
সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা করেনি এবং করবেও না। টিকিট বুক করার
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের অ্যালার্ট সিস্টেম বিষয়টি শনাক্ত করেছে। তবে একজন নাগরিক
হিসেবে তাদের দেশে ফেরায় বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) কমিশনার
ক্রিসি ব্যারেট স্পষ্ট করেছেন যে, এই দলের সদস্যরা বিমানবন্দরে পৌঁছানো মাত্রই সুনির্দিষ্ট
প্রমাণের ভিত্তিতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হবে। তিনি জানান, গত এক দশক ধরে
তদন্তকারীরা তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের (যেমন দাস ব্যবসার
সঙ্গে সম্পৃক্ততা) তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে না,
তাদের ওপর সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হবে। ফিরে আসা শিশুদের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি
রাখছে প্রশাসন।
কমিশনার ব্যারেট জানান, শিশুদের ওপর উগ্রবাদের
প্রভাব কাটিয়ে উঠতে তাদের থেরাপিউটিক সাপোর্ট, কমিউনিটি ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং
বিশেষ কাউন্সিলিংয়ের আওতায় রাখা হবে। অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা 'অ্যাসিও' -এর প্রধান
মাইক বার্গেস বলেন, এই দলের ফেরা নিয়ে তারা এখনই আতঙ্কিত নন, তবে তারা কড়া নজরদারিতে
থাকবেন। এখানে আসার পর তাদের কার্যক্রম যদি উদ্বেগের কারণ হয়, তবে জয়েন্ট কাউন্টার
টেররিজম টিম দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএসের পতনের পর থেকে
উত্তর সিরিয়ার আল-রোজ ক্যাম্পে কয়েক হাজার বিদেশি নারী ও শিশু মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অস্ট্রেলিয়ার মোট ৩৪ জনের একটি দলের ফেরার কথা ছিল, যাদের মধ্যে ২৩ জনই শিশু। এর আগে
ফেব্রুয়ারি মাসে কারিগরি কারণে একবার চেষ্টা করেও তারা ফিরতে ব্যর্থ হয়। অস্ট্রেলিয়ার
মতো ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্যও তাদের দেশের নাগরিকদের সিরিয়া থেকে ফিরিয়ে
নিতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে।
সম্প্রতি এই দলের একজনকে দুই বছরের জন্য
‘সাময়িক বহিষ্কার
আদেশের’ মাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে এবারের এই ১৩ জনের ফেরার উদ্যোগ
দেশটির নিরাপত্তা এবং আইনি ব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

