Logo

আন্তর্জাতিক

উত্তরাধিকার

উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ বলছে কিম জু আয়ে-র পোশাক

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২০:১৫

উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ বলছে কিম জু আয়ে-র পোশাক

কিম জু আয়ে

২০২২ সালের নভেম্বরে এক বিশাল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিম জং উনের পাশে প্রথমবার দেখা গিয়েছিল এক কিশোরীকে। সাদা প্যাডেড জ্যাকেট আর কালো প্যান্টে হাস্যোজ্জ্বল সেই মেয়েটিই কিম জু আয়ে। সেই প্রথম উপস্থিতি থেকে আজ পর্যন্ত জু আয়ে-র প্রতিটি পোশাক ও হেয়ারস্টাইল উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জু আয়ে-র বর্তমান বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, কিম জং উন তাকেই তার উত্তরাধিকারী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সে কারণেই এত অল্প বয়সে তাকে সামরিক মহড়া থেকে শুরু করে বিদেশি সফর—সবখানেই বাবার পাশে দেখা যাচ্ছে। তবে নেত্রী হিসেবে তার অল্প বয়স’ যেন দুর্বলতা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য তাকে তার মা রি সোল জু-র মতো ফর্মাল স্যুট এবং স্কার্ট পরানো হচ্ছে। সিজং ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক চিওং সিওং-চ্যাং বলেন, "জু আয়ে-র বয়স কম হওয়াটা ভবিষ্যৎ নেত্রী হিসেবে একটি দুর্বলতা হতে পারে। তাই শাসনব্যবস্থা তাকে তার মায়ের মতো পোশাক পরিয়ে আরও পরিণত এবং দায়িত্বশীল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।"

জু আয়ে-কে অনেক সময় তার বাবার মতো কালো লেদার জ্যাকেট বা ট্রেঞ্চ কোট পরে দেখা যায়। একে বলা হয় ইমেজ রেপ্লিকেশন’ বা প্রতিচ্ছবি তৈরির কৌশল। কিম জং উন নিজেও ক্ষমতায় আসার শুরুতে তার দাদা কিম ইল সুং-এর মতো পোশাক ও হ্যাট পরতেন, যাতে জনগণের কাছে নিজের বৈধতা প্রমাণ করা যায়। এখন জু আয়ে-কেও একইভাবে তার বাবার স্টাইলে সাজানো হচ্ছে যাতে কিম রাজবংশের রক্তের ধারা বা পেকতু ব্লাডলাইন’-এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। জু আয়ে-র ফ্যাশন উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ বিপরীত। যেখানে ২০২০ সালে প্রতিক্রিয়াশীল আদর্শ ও সংস্কৃতি বর্জন আইন’ প্রণয়ন করে উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি সংস্কৃতি ও ফ্যাশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে জু আয়ে-কে দেখা গেছে প্রায় ১,৯০০ ডলার মূল্যের ফরাসি ব্র্যান্ড ক্রিশ্চিয়ান ডিওর’-এর জ্যাকেট পরে।

এমনকি ২০২৪ সালের মে মাসে একটি আবাসিক এলাকার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জু আয়ে-কে সি-থ্রু’ বা স্বচ্ছ ব্লাউজ পরে দেখা যায়। মজার ব্যাপার হলো, এর কিছুদিন পরেই সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে প্রচারিত এক ভিডিও লেকচারে বলা হয়েছে—এই ধরণের পোশাক সমাজতন্ত্র বিরোধী’ এবং এটি নির্মূল করতে হবে। অর্থাৎ কিম পরিবার নিজেদের সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে অনন্য উচ্চতায় এবং আইনের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতেই নামী দামী বিদেশি ব্র্যান্ড, লেদার জ্যাকেট ও পশমি কোট ব্যবহার করছে।

সাধারণ নাগরিকদের জন্য কঠোর আইন থাকলেও উত্তর কোরিয়ার অভিজাত শ্রেণির মধ্যে জু আয়ে-র ফ্যাশন অনুসরণ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জানা গেছে, পিয়ংইয়ংয়ের নামী কিন্ডারগার্টেনগুলোতে জু আয়ে-র মতো স্বচ্ছ ব্লাউজ পরা শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি চীন সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে লেদার কোট ও রোদচশমার চাহিদাও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জু আয়ে-র এই বিবর্তনশীল ফ্যাশন মূলত একটি বার্তাই দিচ্ছে—তিনি কেবল কিমের আদুরে কন্যা নন, বরং তিনি উত্তর কোরিয়ার আগামী দিনের হর্তাকর্তা হওয়ার পথে সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন