ওহাইও’র গভর্নর পদে
মনোনয়ন পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২০:১৭
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের বিবেক রামাস্বামী এবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হওয়ার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ক্যাসি পুটচকে হারিয়ে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন এই স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। ওহাইও’র বর্তমান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারছেন না, আর সেই শূন্যস্থান পূরণে ট্রাম্পের এই কট্টর মিত্রের ওপরই ভরসা রাখল রিপাবলিকানরা।
বিবেক রামাস্বামীর জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অকুণ্ঠ সমর্থন।
রামাস্বামীকে ‘তরুণ, শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান’ হিসেবে
আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রশংসা করেন। মূলত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়ার পর থেকেই রামাস্বামী ট্রাম্পের
অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান। এমনকি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’
শুরুর দিকে রামাস্বামীরই নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, যা পরে ইলন মাস্কের হাতে যায়।
মনোনয়ন পাওয়ার পর রামাস্বামী সমর্থকদের
উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার লক্ষ্য হলো এই অঙ্গরাজ্য এবং এই দেশকে আমরা যেভাবে পেয়েছি, তার
চেয়ে আরও উন্নত অবস্থায় রেখে যাওয়া।”
এদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে বিনা
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পেয়েছেন ওহাইও’র সাবেক জনস্বাস্থ্য পরিচালক অ্যামি অ্যাক্টন।
তার প্রধান লক্ষ্য ওহাইও’র কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।
মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বলেন, “জীবন যাপন করা এতটা কঠিন হওয়া উচিত নয়।
এখন সময় এসেছে সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার।”
নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে কোভিড-১৯ মহামারির
সময়কার বিধিনিষেধ একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জনস্বাস্থ্য
পরিচালক হিসেবে অ্যামি অ্যাক্টনের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যেই আক্রমণ শুরু করেছেন রামাস্বামী।
এক বিজ্ঞাপনে রামাস্বামী অভিযোগ করেন, অ্যাক্টন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০২০ সালে আদালতের
নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচন স্থগিত করেছিলেন।
যদিও বর্তমান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন এই অভিযোগে
অ্যাক্টনকে সমর্থন দিয়ে বলেছেন, সেই সিদ্ধান্তটি আসলে তার নিজের ছিল। একই দিনে পার্শ্ববর্তী
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও ট্রাম্পের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ইন্ডিয়ানা স্টেট সিনেটের
সাতজন রিপাবলিকান সদস্য যারা ট্রাম্পের নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ পরিকল্পনার বিরোধিতা
করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প নিজ থেকেই প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন। প্রাথমিক ফলাফলে
দেখা গেছে, ট্রাম্প সমর্থিত চ্যালেঞ্জারদের কাছে অন্তত পাঁচজন বর্তমান সিনেটর তাদের
আসন হারিয়েছেন। এই ফলাফলকে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের
নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ওহাইও’র এই গভর্নর নির্বাচন হতে যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল লড়াই। নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ২৫ মিলিয়ন
ডলার ঋণ দিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন রামাস্বামী। অন্যদিকে জেডি ভ্যান্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট
পদে আরোহণ ওহাইও’তে রিপাবলিকানদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। আগামী নভেম্বরের
এই লড়াইয়ে রামাস্বামীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বনাম অ্যামি অ্যাক্টনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার
মধ্যে কাকে বেছে নেয় ওহাইও’র ভোটাররা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

