যৌন নিপীড়নের দায়ে এসএনপি’র সাবেক কাউন্সিল নেতার কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২০:১৮
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একাধিক তরুণ ও কিশোরকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের দায়ে স্কটল্যান্ডের নর্থ ল্যানার্কশায়ার কাউন্সিলের সাবেক নেতা জর্ডান লিন্ডেনকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ফালকার্ক শেরিফ আদালতে শুনানি শেষে শেরিফ ক্রিস্টোফার শেড এই সাজা ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি লিন্ডেনের নাম স্থায়ীভাবে যৌন অপরাধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে লিন্ডেন পাঁচটি
পৃথক যৌন নিপীড়ন এবং সাতজন কিশোরের কাছে আপত্তিকর যৌন বার্তা পাঠানোর দায়ে গত মার্চে
দোষী সাব্যস্ত হন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। বিচারের সময় জানা
যায়, লিন্ডেন তার নগ্ন ছবি এবং গোসলের দৃশ্য তরুণদের পাঠিয়ে উত্যক্ত করতেন। শেরিফ ক্রিস্টোফার
শেড রায় প্রদানের সময় বলেন, “অপরাধের ধরন বিবেচনা করে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কারাদণ্ডই
এই ক্ষেত্রে একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি।” সাজা ঘোষণার সময় লিন্ডেনকে আবেগহীন দেখালেও আদালত
কক্ষ ছাড়ার সময় তিনি গ্যালারিতে বসে থাকা তার বাবাকে উদ্দেশ্য করে চুমু ছুঁড়ে দেন।
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির উদীয়মান নেতা
হিসেবে লিন্ডেন ২০১৭ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে নর্থ ল্যানার্কশায়ার
কাউন্সিলের নেতৃত্বে বসেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সামনে আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই
তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। লিন্ডেন এক সময় স্কটিশ ইয়ুথ পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান
হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। লিন্ডেনের আইনজীবী ডেভিড মগিচ আদালতে দাবি করেন, লিন্ডেন
তার কৈশোরে নিজের যৌন পরিচয়ের কারণে বুলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন এবং তার সামাজিক দক্ষতার
অভাব ছিল। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করলেও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কারাদণ্ডের আদেশ
বহাল রাখেন।
বিচারের সময় ভুক্তভোগীরা লিন্ডেনের হাতে
তাদের নিগ্রহের যন্ত্রণাদায়ক বর্ণনা দেন। একজন ভুক্তভোগী জানান, ২০১৮ সালে লিন্ডেনের
ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে ঘুম থেকে জেগে তিনি লিন্ডেনকে যৌনকর্মে লিপ্ত থাকতে দেখেন, যা
তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। আরেকজন ভুক্তভোগী ‘জেমস’ (ছদ্মনাম) বিবিসি স্কটল্যান্ডকে
জানান, ২০১৫ সালে এসএনপি-র একটি প্রচারণার সময় লিন্ডেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একটি
বিদেশ সফরের সময় লিন্ডেন জোর করে জেমসের বিছানায় ঢুকে তাকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন।
জেমস বলেন, “যখন দেখলাম আরও
অনেকে সাহস করে মুখ খুলছে, তখনই আমি অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিই।”
ভুক্তভোগীদের অনেকে অভিযোগ করেছেন যে,
লিন্ডেনের আচরণ নিয়ে আগে অভিযোগ করা হলেও রাজনৈতিক দল এসএনপি এবং ইয়ুথ পার্লামেন্ট
কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। জেমস বলেন, শুরুতে তিনি দলের ভেতরে বিষয়টি মিমাংসা
করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এসএনপি পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তিনি শেষ পর্যন্ত
পুলিশের দ্বারস্থ হন। এই রায়কে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা। প্রায় ১০
বছর ধরে ট্রমার মধ্যে কাটানোর পর লিন্ডেনের সাজা হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

