কলকাতায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহকারীকে গুলি করে হত্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৯:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী চন্দ্রনাথ রাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) কলকাতার মধ্যমগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চন্দ্রনাথ রাথ এবং তার সঙ্গে আরেকজন গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে যায় হত্যাকারীরা।
চন্দ্রনাথের গাড়ি একটু ধীর হওয়ার পরই তাকে লক্ষ্য করে চারটি গুলি ছোড়ে আততায়ীরা৷ যার তিনটি চন্দ্রনাথের শরীরে লাগে। তার সঙ্গে থাকা অপরজন গুলিতে আহত হন৷ তাকে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি গাড়ির চালক নাকি চন্দ্রনাথের সহকর্মী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চন্দ্রনাথ রথের মরদেহ একটি বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ওই হাসপাতালেই চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চন্দ্রনাথ রাথ অতীতে সরকারি চাকরি করতেন। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে কাজ করেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমাধ্যম শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রাতে বাড়ি ফেরার সময় একেবারে কাছ থেকে, কার্যত তার গাড়ির জানালার কাচে নল ঠেকিয়ে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা বাইকে বসে ছিল বলে জানা গেছে। তারা চন্দ্রনাথের গাড়িটি থামিয়ে কিছুক্ষণ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীদের সংঘাতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দুই দলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কারণেই এসব খুন হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে, তা স্পষ্ট করে রাজ্য পুলিশ এখনো জানাতে পারেনি। ব্যাপক হারে রাজ্যে লুটপাট, পার্টি অফিসে হামলা, আগুন লাগানো থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অনেকেই ঘরছাড়া। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে সহিংসতা ও সন্ত্রাস দমনে তারা সব রকমভাবে চেষ্টা করছে। অসংখ্য ব্যক্তিকে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্য বিজেপির প্রধান নেতার ব্যক্তিগত সহকারীকে খুনের জেরে সহিংসতা আগামী দিনে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। আর এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দায়িত্ব নেওয়ার কথা৷ তার আগেই ঘটল এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

