কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সোমবার এক নীতি-নির্ধারণী বক্তৃতায় তিনি সাফ জানিয়েছেন, পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা তার নেই এবং তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক সময়ে লেবার পার্টির ভেতরেই
তার নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় এই বক্তব্যকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করতে এবং জনসমর্থন
ফেরাতে স্টারমার তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে চলতি সপ্তাহেই
আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ব্রিটিশ স্টিলকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনা হবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি বড় ধরনের সমঝোতার
ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এর আওতায় তরুণদের জন্য ‘ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিম’ চালু করা হবে, যাতে
তারা ইউরোপে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ পায় এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য চাকরির গ্যারান্টি,
প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপের বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের প্রধান
প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং-এর নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।
যদিও স্ট্রিটিং-এর অনুসারীরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন, তবে অনেক এমপি মনে করছেন তিনি
যেকোনো সময় নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারেন। এছাড়া ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম-ও
পার্লামেন্টে ফিরে নেতৃত্বের আসনে বসার চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
স্টারমার তার সমালোচকদের সতর্ক করে বলেন,
লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাইজেল ফারাজের ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের জন্য পথ প্রশস্ত করে
দিচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা শুধু কঠিন সময়ের মুখোমুখি নই, বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক
প্রতিপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।" আগামী শনিবার লন্ডনে প্রস্তাবিত একটি জাতীয়তাবাদী
মিছিলে ‘অতি-ডানপন্থী
উস্কানিদাতাদের’ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণাও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, ক্ষমতায়
আসার পর প্রথম দিকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত নেতিবাচক বার্তা দেওয়া তাদের একটি
ভুল ছিল। তিনি বলেন, "মানুষের জীবন কীভাবে ভালো হবে, সেই আশা ও আশাবাদ আমরা যথেষ্ট
পরিমাণে দেখাতে পারিনি। আমি জানি আমার ওপর অনেকের সন্দেহ আছে, আর আমি কাজ দিয়ে তাদের
ভুল প্রমাণ করব।"
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এই মুহূর্তটিকে
স্টারমারের জন্য অত্যন্ত সংকটকাল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে একদিকে দলীয় বিদ্রোহ আর
অন্যদিকে ডানপন্থী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা সামলানোই তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

