Logo

আন্তর্জাতিক

জামিন পেলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ২০:৩৮

জামিন পেলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি

নার্গিস মোহাম্মদি

ইরানের কারাগারে বন্দি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদীর ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং চিকিৎসার চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে তার সদ্য পাচার হওয়া এক স্মৃতিকথায়। দীর্ঘ এক দশক ধরে গোপনে লেখা এই স্মৃতিকথায় তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে নির্জন কারাবাস ও পরিকল্পিত অবহেলার মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষ তার শরীরকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

আগামী সেপ্টেম্বরে প্রকাশিতব্য এই স্মৃতিকথাটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে এ ওম্যান নেভার স্টপস ফাইটিং’। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান’ এই বইটির কিছু বিশেষ অংশ প্রকাশ করে।

বর্তমানে নার্গিস মোহাম্মদীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত কয়েক মাসে তার ওজন প্রায় ২০ কেজি কমে গেছে। গত মার্চ মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি তার সেলে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। নার্গিসের পরিবার এই অবস্থাকে একটি ধীর গতির মৃত্যুদণ্ড’  হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে আশার কথা হলো, রোববার তাকে চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি তেহরানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

পাচার হওয়া নথিতে নার্গিস লিখেছেন, অসুস্থতা এবং কারাবাসের সম্মিলনের চেয়ে বড় কোনো কষ্ট আর নেই। স্বৈরাচারী শাসকের সবসময় ফাঁসির দড়ির প্রয়োজন হয় না; তারা কেবল মানুষের শরীর ভেঙে পড়ার অপেক্ষা করে। তিনি আরও বর্ণনা করেছেন কীভাবে অন্ধ অবস্থায় দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্জন কারাবাসে মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। গত এক দশকে তার লেখা এই নোটগুলো সহবন্দি ও দর্শনার্থীদের মাধ্যমে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কারাগারের বাইরে পাঠানো হয়েছে। কয়েকবার রক্ষীদের হাতে ধরা পড়ায় খাতা নষ্ট করে ফেলা হলেও তিনি বারবার নতুন করে লিখতে শুরু করেন।

নার্গিস মোহাম্মদীকে এখন পর্যন্ত ১৪ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানের নারীদের অধিকার রক্ষা, কারাবন্দিদের অবস্থার উন্নয়ন এবং মৃত্যুদণ্ড প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অপরাধে তাকে ৪৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫৪টি দোররা মারার আদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে কারাগারে বন্দি অবস্থাতেই তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হলেও এক বছর পর তাকে আবারও সহিংসভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এভিন, কারচাক এবং জানজান—এই তিনটি কুখ্যাত কারাগারে বিভিন্ন সময় তার কাটানো দিনগুলোর অবর্ণনীয় কষ্টই ফুটে উঠেছে তার এই আত্মজীবনীতে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন