পদত্যাগ করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়র আইলিন ওয়াং
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ২০:৫১
আইলিন ওয়াং
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি শহরের মেয়র পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চীনের সরকারের হয়ে ‘অবৈধ বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন। সোমবার মার্কিন বিচার বিভাগ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন আর্কেডিয়া শহরের ৫৮ বছর বয়সী মেয়র আইলিন ওয়াং।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আইলিন ওয়াং
ইতিমধ্যে ফেডারেল আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে রাজি হয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে
তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এক
বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের দেশে যারা গোপনে বিদেশি সরকারের নির্দেশে কাজ করে, তারা
আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। চীন আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলুষিত করার
যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের সর্বশেষ সাফল্য এই সমঝোতা।"
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, আইলিন ওয়াং এবং
ইয়াওনিং ‘মাইক’ সান (৬৫)
নামের জনৈক ব্যক্তি ‘ইউএস নিউজ সেন্টার’ নামে একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। এটি স্থানীয়
চীনা-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে একটি সংবাদ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে,
তারা এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে প্রোপাগান্ডা বা উদ্দেশ্যমূলক
প্রচারণা চালাতেন। তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ সালের জুনে চীনের একজন সরকারি কর্মকর্তা
এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘উইচ্যাট’ -এর মাধ্যমে ওয়াংকে কিছু নিবন্ধ পাঠান।
ওই নিবন্ধগুলোতে জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর
মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল এবং দাবি করা হয়েছিল যে সেখানে
কোনো ‘গণহত্যা’ বা ‘দাসত্ব’ নেই। চীনা কর্মকর্তার নির্দেশের
কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওয়াং সেই লেখাগুলো তাঁর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেন। কাজ শেষে সেই
লিংকের খবর জানিয়ে চীনা কর্মকর্তাকে উত্তর দিলে তিনি পাল্টা বার্তায় বলেন, “এত দ্রুত! সবাইকে ধন্যবাদ।”
বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, আইলিন ওয়াং
চীনের উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জন চেনের সাথেও যোগাযোগ রাখতেন। জন চেন সরাসরি
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানা যায়। ২০২১ সালের নভেম্বরে
ওয়াং জন চেনকে একটি নিবন্ধ শেয়ার করে লিখেছিলেন, “চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঠিক এটাই পাঠাতে
চেয়েছিল।”
উল্লেখ্য, জন চেন এবং মাইক সান—উভয়কেই
এর আগে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অপরাধে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর্কেডিয়া মূলত
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির একটি শহর, যার জনসংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার। আইলিন ওয়াং ২০২২ সালের
নভেম্বরে সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ডিসেম্বরে মেয়র হিসেবে শপথ নেন। শহরের
ম্যানেজার ডমিনিক লাজারেটো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তদন্তে দেখা গেছে ওয়াংয়ের এই অপরাধমূলক
কর্মকাণ্ডগুলো তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগের।
লাজারেটো বলেন, “একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর বিদেশি
সরকারের প্রভাব বিস্তারের এই অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে আমরা অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার
মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, এই ঘটনায় শহরের কোনো অর্থ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া
জড়িত ছিল না।” যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল
জন সি. আইজেনবার্গ বলেন, “জনসাধারণের আস্থায় থাকা একজন ব্যক্তি আগে বিদেশি সরকারের গোপন নির্দেশ
বাস্তবায়ন করেছেন—এটি অত্যন্ত ভীতিকর। বিশেষ করে এই বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে তাঁর সম্পর্কের
কথা তিনি কখনোই প্রকাশ করেননি।”
বর্তমানে আর্কেডিয়া সিটি কাউন্সিল তাদের
পরবর্তী সভায় নতুন মেয়র এবং মেয়র প্রো-টেম নির্বাচন করবে। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে
চীনা প্রভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইলিন ওয়াংয়ের এই স্বীকারোক্তি
মার্কিন প্রশাসনের ‘চীন বিরোধী’ গোয়েন্দা তৎপরতায় বড় একটি বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

