এভারেস্ট চূড়ার পথ উন্মুক্ত
শৃঙ্গজয়ের লড়াইয়ে বাড়ছে ট্রাফিক জ্যাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ২০:০০
মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার পথে বিশাল এক বরফ খণ্ডের (সেরাক) দেওয়া বাধা অবশেষে অপসারিত হয়েছে। একদল দক্ষ নেপালি পর্বতারোহী বুধবার সকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দড়ি ও মই ব্যবহার করে নতুন পথ তৈরি করেছেন। এর ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেস ক্যাম্পে আটকে পড়া শত শত পর্বতারোহীর সামনে এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের পথ খুলে গেল।
সাধারণত এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত
এভারেস্ট আরোহণের উপযুক্ত সময় থাকে। তবে এ বছর একটি বিশাল ও অস্থিতিশীল বরফ খণ্ড মূল
পথটি আটকে দেওয়ায় আরোহণের জানলা অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। নেপালি শেরপাদের একটি এলিট
টিম বুধবার ক্যাম্প ফোর থেকে চূড়া পর্যন্ত দড়ি বা ‘ফিক্সড রোপ’ টানানোর কাজ শেষ করেছে।
তবে আবহাওয়া ও পথের সমস্যার কারণে দেরি
হওয়ায় এখন খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি আরোহীকে চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করতে হবে।
এ বছর নেপাল সরকার রেকর্ড সংখ্যক প্রায়
৫০০ বিদেশি পর্বতারোহীকে এভারেস্ট আরোহণের অনুমতি দিয়েছে। প্রতিটি বিদেশি আরোহীর সাথে
অন্তত একজন নেপালি গাইড থাকেন, যাদের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হয় না। ফলে আগামী দুই সপ্তাহে
প্রায় ১,০০০ মানুষ একসাথে চূড়ার দিকে যাত্রা করবেন।
অভিজ্ঞ পর্বতারোহী পূর্ণিমা শ্রেষ্ঠা বিবিসির
কাছে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে অনেক মানুষ একসাথে ওঠার
চেষ্টা করায় চূড়ার কাছাকাছি সরু পথে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে পারে। এই ‘ট্রাফিক জ্যাম’ উচ্চতাজনিত অসুস্থতা বা অক্সিজেন সংকটের
ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।”
আরোহণের মূল মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই গত
দুই সপ্তাহে এভারেস্টে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন নেপালের দলিত সম্প্রদায়ের
প্রথম এভারেস্টজয়ী বিজয় ঘিমিরে (৩৫), যিনি উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় প্রাণ হারান। এছাড়া
তুষার ফাটলে পড়ে মারা গেছেন ২১ বছর বয়সী ফুরা গ্যালজেন শেরপা এবং বেস ক্যাম্পে যাওয়ার
পথে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন লাকপা ডেন্ডি শেরপা।
তিব্বত দিয়ে এভারেস্টে ওঠার উত্তর দিকের
পথটি এ বছরও চীন সরকার বিদেশি পর্যটকদের জন্য বন্ধ রেখেছে। ফলে নেপালের দক্ষিণ দিকের
পথে আরোহীদের ভিড় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে বেস ক্যাম্পে প্রায় ২,০০০ মানুষ
অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেপাল সরকার এবার
পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ দল নিয়োগ করেছে, যারা বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলের সাথে সমন্বয়
করে আরোহীদের ধাপে ধাপে ওপরে পাঠানোর কাজ তদারকি করবেন।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

