আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেলেনস্কির প্রধান সহযোগী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ২০:২৭
আন্দ্রেই ইয়ারমাক
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে এসেছে। আর এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সাবেক চিফ অব স্টাফ আন্দ্রেই ইয়ারমাক। কিভের কাছে একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের আড়ালে কোটি কোটি ডলার পাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলো।
ইউক্রেনের ‘ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো’ এবং
বিশেষ প্রসিকিউটর অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫৪ বছর বয়সী আন্দ্রেই ইয়ারমাক একটি সংগঠিত
অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রটি কিভের উপকণ্ঠে একটি বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের
মাধ্যমে প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন রিভনিয়া বা ১০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করেছে বলে সন্দেহ
করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার কিভের একটি আদালতে এই মামলার
শুনানিতে হাজির হন ইয়ারমাক। প্রসিকিউটররা তদন্ত চলাকালীন তাঁর ওপর ৫.৪ মিলিয়ন ডলারের
জামিন অযোগ্য শর্ত আরোপের আবেদন করেছেন। গত নভেম্বর মাসে পদত্যাগ করা ইয়ারমাক তাঁর
বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই
অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি
করে বলেন, “একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী
হিসেবে আমি সবসময় আইন মেনে চলেছি। আমি আমার নাম এবং সুনাম রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।”
আদালতে তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বলতে কেবল একটি অ্যাপার্টমেন্ট
এবং একটি গাড়ি রয়েছে। ইয়ারমাকের আইনজীবী ইহোর ফোমিন অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
এবং জনরোষের চাপে পড়েই তাঁর মক্কেলকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
কেবল ইয়ারমাকই নন, জেলেনস্কির আরও কয়েকজন
ঘনিষ্ঠ সহযোগী এখন তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এদের মধ্যে ইউক্রেনের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা
ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রুস্তম উমেরভ। আবাসন
প্রকল্পে দুর্নীতির এই মামলায় তাঁকে ইতিমধ্যেই সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে,
জেলেনস্কির সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার তিমুর মিন্ডিচ। গত বছর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর
তিনি দেশ ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যান। তাঁর বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ঘুষ কেলেঙ্কারির
অভিযোগ রয়েছে।
জেলেনস্কি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কোনো দুর্নীতির
অভিযোগে অভিযুক্ত না হলেও, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের এই কেলেঙ্কারি ইউক্রেনকে আন্তর্জাতিকভাবে
বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টায়
এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারজ সম্প্রতি
সতর্ক করে বলেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধ এবং দুর্নীতি দমন না করা পর্যন্ত ইউক্রেনকে ইইউ-তে
অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি
করেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন যে রাশিয়ার যুদ্ধের
চেয়েও দুর্নীতি এখন দেশটির জন্য বড় হুমকি।
তবে ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকারীদের
মতে, প্রেসিডেন্টের অতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই তদন্ত প্রমাণ করে যে দেশটির বিচার
ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলো এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

