Logo

আন্তর্জাতিক

আদালত চত্বরে মমতাকে দেখেই ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ২১:২৩

আদালত চত্বরে মমতাকে দেখেই ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র উপস্থিতেকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে সৃষ্টি হলো এক নজিরবিহীন ও চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি। একটি মামলার শুনানিতে যোগ দিতে আসা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনজীবীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পন্থী ও বিজেপি পন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার একটি আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ব্যক্তিগতভাবে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী যখন আদালত কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই আইনজীবীদের একটি দল তাঁকে লক্ষ্য করে চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, বিজেপির মদতপুষ্ট কিছু আইনজীবী পরিকল্পিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছেন। আদালতের মতো পবিত্র স্থানে একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তারা তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও চেষ্টা করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিচারব্যবস্থার প্রাঙ্গণকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্লোগান দেওয়া আইনজীবীদের পক্ষের দাবি, তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি ইস্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এই বাদানুবাদ দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ব্যাপক হিমশিম খেতে হয়। আদালত চত্বরে রাজনৈতিক স্লোগান এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে এই ধরনের নজিরবিহীন ঘটনায় স্তম্ভিত আইনজীবী মহলের একাংশ। অনেক প্রবীণ আইনজীবী মনে করছেন, হাইকোর্টের মতো জায়গায় এই ধরনের আচরণ বিচারব্যবস্থার গৌরব ক্ষুণ্ণ করে।

বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং এর সঙ্গে দলের সরাসরি কোনো যোগ নেই। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই ঘটনার জেরে হাইকোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন