Logo

আন্তর্জাতিক

শি’র সঙ্গে বৈঠক প্রাধান্য পেয়েছে ইরান, তাইওয়ান, বাণিজ্য ইস্যু

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ২১:৪১

শি’র সঙ্গে বৈঠক প্রাধান্য পেয়েছে ইরান, তাইওয়ান, বাণিজ্য ইস্যু

তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে চীন ছেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ট্রাম্পকে বহরকারী বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড্ডয়ন করে। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টর সম্মানে বিমানবন্দরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এরআগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটন-বেইজিং টানাপোড়েনের মধ্যেই গত বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছান ট্রাম্প। ইতোমধ্যেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের সঙ্গে দুই দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন তিনি। এ বৈঠকে ইরান যুদ্ধ এবং এর সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, ব্যবসায়িক চুক্তি ও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছে। 

এছাড়া ট্রাম্প তিনদিনের এ সফরে চীনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনাও ঘুরে দেখেছেন। গতকাল তিনি গিয়েছিলেন চীনের জোংনানহাই কম্পাউন্ডে। এসময় সেখানে থাকা চীনা গোলাপের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। এরপর তার জন্য গোলাপ ফুলের বীজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, বৈঠকে তিনি এবং সি চিন পিং ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তেহরানের কাছে কোনো ধরনের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়—এ মূল বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, এটি উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের মোটেও নেই, কিংবা অন্তত চীনের যতখানি প্রয়োজন, মার্কিনদের ততখানি প্রয়োজন নেই। 

চীন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে কৃষি, বিমান চলাচল, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের একটি প্রতিনিধিদল ছিল। দুই দেশের সম্পর্ককে ট্রাম্প ‘বিশ্বের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এই সম্মেলনটি কোনো বাস্তব অর্থনৈতিক অর্জনের চেয়ে বরং উষ্ণ বক্তব্য ও আনুষ্ঠানিকতাতেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল। প্রথম দিনের জমকালো আয়োজন এবং ইতিবাচক আলোচনার পরও কোনো বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক চুক্তির ঘোষণা আসেনি। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও শি দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। হোয়াইট হাউস এটিকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছে। গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ দাঁড়িয়ে ট্রাম্প এই বৈঠককে ‘সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বড় সম্মেলন’ বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে শি বলেন, এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বাণিজ্য আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হয়েছিল। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি ঠিকমতো সামলাতে না পারলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ, এমনকি যুদ্ধও হতে পারে।’ 

বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে - ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠককে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছেন। বেইজিংয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ ভোজসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, চীনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং মার্কিন ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ ভোজসভায় ইলন মাস্ক ও টিম কুকও ছিলেন।

চীনের রাজধানীতে বহুল আলোচিত শীর্ষ বৈঠকের প্রথম পূর্ণ দিনের কার্যক্রম শেষে তিয়েনআনমেন স্কয়ারসংলগ্ন জাঁকজমকপূর্ণ ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এর লাল গালিচাবিশিষ্ট ভোজকক্ষে এ নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প আরও জানান, তিনি শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

দুই নেতা ভোজসভায় পৌঁছার আগে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে প্রাণবন্ত পরিবেশ দেখা যায়। সেখানে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে আলাপ করতে দেখা গেছে।

ঐতিহ্যবাহী লাল পোশাক পরা পরিবেশনকারীদের বর্ণিল সাজসজ্জার টেবিলগুলোর মাঝে ব্যস্তভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে ছিল বেইজিং রোস্ট হাঁস, পোর্ক বান এবং তিরামিসু। তবে এ উচ্ছ্বাসঘন পরিবেশ বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যকার বড় ধরনের মতপার্থক্য আড়াল করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে চায় চীন, দাবি ট্রাম্পের: চীনের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে চীন। ট্রাম্পের বলেছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কা থেকে চীনের উদ্দেশে তেলবাহী জাহাজ পাঠানো হবে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে এই সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, যেসব বিষয়ে আমরা চুক্তিতে পৌঁছাব, তার একটি হলো—তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে চায় বলে সম্মত হয়েছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা টেক্সাসে যাবে। আমরা টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কা থেকে চীনা জাহাজ পাঠানো শুরু করব। এটা বড় একটি বিষয়।’

অন্যদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের ওপর প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা রাখেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে সম্মত হয়েছে। 

তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে শি’র সতর্কতা: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে ‘সংঘাতের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প চীন সফরে এসে স্বাগতিক শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ ও ‘বন্ধু’ বলে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সামনে ‘একটি চমৎকার ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে। তবে ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানোর পর তুলনামূলক সংযত ভাষায় শি বলেন, দুই পক্ষের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত’। একই সঙ্গে তিনি শুরুতেই স্বশাসিত গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ানের বিষয়টি সামনে আনেন, যাকে বেইজিং নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, শি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি সংঘাতেও রূপ নিতে পারে। এতে পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যাবে।’

প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকের শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শি’র সঙ্গে চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে : ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে। গতকাল দুই নেতা এক পরাশক্তির শীর্ষ বৈঠকের শেষ দফার আলোচনায় মিলিত হন। ট্রাম্পের দাবি, এ বৈঠক থেকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে চীনের সহায়তার প্রস্তাবও পাওয়া গেছে।

কৃষি, বিমান চলাচল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প বেইজিং সফরে যান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প শি’কে ‘মহান নেতা’ ও ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করলেও চীনা প্রেসিডেন্ট তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, সফর থেকে ‘অনেক ভালো কিছু’ এসেছে।

বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, নিষিদ্ধ নগরীর পাশে অবস্থিত চীনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কম্পাউন্ড ঝোংনানহাইয়ের বাগানে শি’র সঙ্গে হাঁটার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কিছু চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি করেছি, যা দুই দেশের জন্যই দারুণ।’

শীর্ষ বৈঠকের প্রথম দিনের আলোচনা শেষে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বেইজিংয়ের আলোচনা ভালো হয়েছে এবং শি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, শি কার্যত আশ্বস্ত করেছেন যে চীন তেহরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে না। ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে।

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘তিনি বলেছেন, তিনি সামরিক সরঞ্জাম দেবেন না... তিনি খুব জোর দিয়েই এটা বলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে যেতে দেখতে চান এবং বলেছেন, আমি যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারি, তাহলে তা করতে চাই।

দুই নেতা ইরান প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন কি না-এমন প্রশ্নে শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ‘সমগ্র ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়া উচিত।’

আলোচনায় ছিল ইরান সংঘাত ও তেলের বাজার: ট্রাম্প এই আলোচনায় ইরান সংঘাত এবং তেলের বাজারের স্থিতিশীলতার বিষয়ে চীনের সহযোগিতাও আশা করেছিলেন। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (শি জিনপিং) হরমুজ প্রণালি খোলা দেখতে চান এবং বলেছেন, “আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তবে আমি সাহায্য করতে চাই।’

গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ‘সর্বাত্মক এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নৌপথগুলো যত দ্রুত সম্ভব আবার খুলে দেওয়া উচিত।’

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে চীন চাইলে ইরানের ওপর তাদের প্রভাব খাটাতে পারে। চীনের দেওয়া তথ্যেও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আশা করা হচ্ছে, সেই সম্মেলনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হবে। আর সেই আলোচনার মাধ্যমেই হয়তো বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি এমন কোনো বড় চুক্তি করতে পারবে, যা এবার সম্ভব হয়নি। 

এদিকে, আলোচনা শুরুর কিছুক্ষণ পরই চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শি ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে ‘সংঘাতের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাইওয়ান প্রসঙ্গ ওঠেনি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেও ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ আরও কথা বলবেন।

ট্রাম্পের বেইজিং সফর প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। গত বৃহস্পতিবার শি ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। এটি এমন একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব, যেখানে বলা হয়: একটি উদীয়মান শক্তি যখন প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে, তখন যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে শি বলেন, তার বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ বিপদ ‘অতিক্রম’ করতে পারবে।

গতকাল ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শি ‘খুব মার্জিতভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সম্ভবত একটি পতনশীল জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, শি তার আমলের যুক্তরাষ্ট্রকে নয়, বরং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়কার যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চেয়েছেন।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, ‘দুই বছর আগে আমরা সত্যিই একটি পতনশীল জাতি ছিলাম। এখন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত জাতি, এবং আশা করি চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও ভালো হবে!’

তিনি আরও বলেন, শি তাকে ‘অসংখ্য অসাধারণ সাফল্যের’ জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন