আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর
বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ২০:৩২
শুভেন্দু অধিকারী
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বাংলাদেশের জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বা অস্বস্তি অনেক বেশি বেড়ে গেছে।”
গত সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও
ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো,
তোষণ রাজনীতি বন্ধ এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ
করেন।
সদ্যঃসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল
কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে
পরাজিত করার পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ
করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি ভয় পাওয়ার বা মাথা নোয়ানোর লোক নন এবং বিজেপি নির্বাচনের
আগে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই মুখ্যমন্ত্রী তা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবে।
তিনি বলেন, “আমার সরকারের
কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশের সুরক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের
নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের (বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো) সময় চলে এসেছে।
সীমান্ত সুরক্ষিত করা হবে, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের
হটিয়ে যেখান থেকে এসেছিল, ঠিক সেই রাস্তা দিয়েই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।”
এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি
ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে (সীমান্ত রক্ষী বাহিনী) সীমান্তে কাঁটাতারের
বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত রোববার কলকাতার পার্ক সার্কাসে
বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায়
ইতোমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার পার্ক সার্কাসে সশরীরে দাঁড়িয়ে এবং আহত
তিন পুলিশকর্মীর সাথে দেখা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের ওপর হামলা,
ভাঙচুর, গুন্ডামি, তোলাবাজি কিংবা সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের
অশান্তির ঘটনায় রাজ্য সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’।
আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ
টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা সরকারি সম্পত্তির এই ক্ষতি করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে
‘২০০ শতাংশ উসুল’ বা দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ
আদায় করা হবে।
অনুষ্ঠানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে
তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মিত্র ইনস্টিটিউশনের
যে চারটি বুথ রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই মমতা হেরেছেন এবং বিজেপি লিড পেয়েছে। যে নেত্রী
নিজের বুথেই জিততে পারেন না, রাজ্যের মানুষ তাকে চিরতরে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তার
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।”
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

