Logo

আন্তর্জাতিক

কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যু

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ২০:৪৪

কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যু

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোয় (ডিআরসি) নতুন করে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর গতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেউসুস। চলমান এই প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোয় ইতিমধ্যে অন্তত ৫০০ জন সম্ভাব্য আক্রান্ত এবং ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়া সদস্যদের উদ্দেশ্যে ড. তেদরোস বলেন, মাঠপর্যায়ে নজরদারি, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। তিনি ইতিমধ্যে গত রোববার ভোরে এই প্রাদুর্ভাবকে বিশ্বব্যাপী জরুরি জনস্বাস্থ্য অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

মঙ্গলবার জেনেভায় এক জরুরি বৈঠকের আগে ড. তেদরোস আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো মহাপরিচালক জরুরি কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই এমন বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা বিবেচনা করেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আজই ডাব্লিউএইচও-এর জরুরি কমিটি এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান জানান, গ্রামাঞ্চলের চেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে ভাইরাসের বিস্তারের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর মাধ্যমেও ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ৩০ জন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও একজনের আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর খবর মিলেছে। এছাড়া একজন মার্কিন নাগরিকও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইতুরি প্রদেশটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ড. তেদরোস বলেন, ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে এই অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা গত দুই মাসে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর ফলে ১ লক্ষাধিক মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আর ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্থানান্তর কী ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা আমাদের জানা।

এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইতুরি ও উত্তর কিভু প্রদেশে ইবোলার জাইর স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২,৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। সে সময়ও পূর্ব কঙ্গোর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের সহায়তা কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এবারও বুনিয়া, উত্তর কিভুর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী গোমা, মংবওয়ালু, বুটেম্বো এবং নিয়াকুন্ডে অঞ্চলে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ইবোলা ভাইরাস মূলত আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণীর শরীরের তরল পদার্থের (রক্ত, লালা, বমি ইত্যাদি) সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, বমি এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইবোলায় গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ, তবে অতীতের কিছু প্রাদুর্ভাবে এই হার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, কঙ্গো ও উগান্ডায় এর আগে ২০ বারেরও বেশি ইবোলা প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হলেও, এবারই মাত্র তৃতীয়বারের মতো বুন্দিবুগিও নামক বিরল স্ট্রেনটি শনাক্ত হয়েছে। জাইর স্ট্রেনের জন্য টিকা থাকলেও, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কারণ এই বুন্দিবুগিও ভাইরাসের কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন