Logo

আন্তর্জাতিক

কিউবা আক্রান্ত হলে ‘রক্তগঙ্গা’ বইবে: মিগুয়েল দিয়াজ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ২০:৪৬

কিউবা আক্রান্ত হলে ‘রক্তগঙ্গা’ বইবে: মিগুয়েল দিয়াজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা হামলা চালায়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং এর ফলে অঞ্চলে রক্তগঙ্গা বইবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ সংক্রান্ত মার্কিন দাবির পর এই মন্তব্য করলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কিউবান প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, কিউবা কারও জন্য কোনো হুমকি নয়। যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে বলে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেন।

মূলত মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টের পর দুই দেশের মধ্যে এই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, কিউবা সম্প্রতি ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। এমনকি কিউবার ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি গুয়ান্তানামো বে, মার্কিন সামরিক জাহাজ এবং ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট এলাকায় হামলার পরিকল্পনা নিয়ে হাভানা আলোচনা করেছে বলেও ওই গোয়েন্দা তথ্যে দাবি করা হয়।

প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সুর ধরে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পৃথক এক পোস্টে বলেন, জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিশ্বের আর দশটি দেশের মতোই কিউবারও যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার রয়েছে।

কিউবায় হামলার উসকানি দিতে একটি মহল মিথ্যা অজুহাত তৈরি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

দীর্ঘ কয়েক প্রজন্ম ধরে ওয়াশিংটনের কমিউনিস্ট-বিরোধী নীতির মুখোমুখি হওয়া কিউবা বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কিউবার প্রধান মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের পর কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এর ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং দৈনিক মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ মিলছে। গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।

গত শুক্রবার খবর আসে যে, ১৯৯৬ সালে কিউবা কর্তৃক একটি মানবিক সংস্থার দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক শীর্ষ নেতা ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত (ইন্ডিক্টমেন্ট) করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন কৌঁসুলিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার তোড়জোড় মূলত কিউবার ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন কিউবার সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য আখ্যা দিয়ে সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন