ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯, আহত তিন হাজার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ২১:০৬
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৯৮০ জন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর সিএনএনের
ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার ‘গোল্ডেন উইন্ডো’র মধ্যে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা এক মুহূর্তও বিশ্রাম নিইনি।
এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিদেশি উদ্ধারকারী দলের দ্রুত সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে ইতোমধ্যে বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ভিটিভি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য রাজধানী কারাকাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের জরুরি মজুতকেন্দ্র স্থাপন করেছে সরকার।
বুধবার আঘাত হানা সাত দশমিক দুই ও সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প গত এক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, কিউবা, এল সালভাদরসহ আমেরিকা অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক, ত্রাণসামগ্রী ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক ও ইরানও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা, উদ্ধারকারী সরঞ্জাম, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ব্রাজিল একটি ফিল্ড হাসপাতাল, দমকলকর্মী ও চিকিৎসক পাঠাচ্ছে।
মেক্সিকো সামরিক উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসাকর্মী পাঠিয়েছে। কলম্বিয়া ৬০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১২ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এল সালভাদর ৩০০ উদ্ধারকর্মী, প্যারামেডিক ও ৫০ টন জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছে।
এ ছাড়া চীন জরুরি মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সামগ্রী এবং একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। তুরস্ক ৬৭ সদস্যের উদ্ধারকারী ও চিকিৎসক দল পাঠাচ্ছে। জার্মানি ছয়টি সামরিক পরিবহন বিমান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও চেক প্রজাতন্ত্রও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (আইএফআরসি) উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে ২৫ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। অন্যদিকে ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপ লিও চতুর্দশ জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রাথমিকভাবে এক লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, প্রায় তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং দেশের হাসপাতালগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ। উদ্ধারকারীদের ধারণা, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানান, সেখানে ১০০টিরও বেশি ভবন ধসে পড়েছে এবং অন্তত ৭০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
লা গুয়াইরা শহরে স্বেচ্ছাসেবকেরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন। অনেক পরিবার এখনো প্রিয়জনের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্ধারস্থলের পাশে অপেক্ষা করছে।
রাজধানী কারাকাসেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আফটারশকের আশঙ্কায় অনেক মানুষ বাড়িতে না ফিরে খোলা আকাশের নিচে বা গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল অবকাঠামো ভেনেজুয়েলার উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিদ্যুৎ সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর ঘাটতিতে নাজেহাল পরিস্থিতি।
উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

