Logo

আন্তর্জাতিক

১৩০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

মার্কিন মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ছাড়াই ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতা চুক্তি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৪৯

মার্কিন মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ছাড়াই ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতা চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনার পর একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে লেবানন-ইসরাইল। শুক্রবার (২৬ জুন) দুই পক্ষের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মিডল ইস্ট আই-এর তথ্য মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, এটি শুরুরও শুরু (the beginning of the beginning)।

পরবর্তীতে এক লিখিত বিবৃতিতে রুবিও জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে। এছাড়া লেবাননের সামরিক বাহিনীকে সহায়তার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে।

রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও সংগঠনটির সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং হুমকি দূর হলে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য সীমান্তে ফিরে যাওয়ার একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পাইলট পরিকল্পনা (Military Coordination Group for Lebanon) গঠন করা হবে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক মাধ্যমে বলেন, এই কাঠামো দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের একটি পদক্ষেপ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করছে না বরং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলিশন ১৭০১ এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নকেই এগিয়ে নেবে। তিনি আরও বলেন, লেবাননে অস্ত্র বহনের অধিকার কেবল বৈধ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর।

চুক্তি আলোচনায় হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশ না নিলেও, রুবিও ইঙ্গিত দেন যে সংগঠনটির সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল। হিজবুল্লাহ এখনো লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক সংগঠন এবং দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর তুলনায় তাদের সক্ষমতা অনেক বেশি বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ওয়াশিংটনে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামেদা মোয়ায়েদ এই আলোচনাকে দীর্ঘ ও কঠিন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথে প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়াখেল লেইতার বলেন, ইরান, হিজবুল্লাহ বাইরে, আর ইসরায়েল-লেবানন শান্তির পথ এখন উন্মুক্ত।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে। লিতানি নদীর দক্ষিণ ও উত্তর অংশে দুটি পাইলট জোন গঠন করা হবে। নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে গেলে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমিত সক্ষমতার লেবাননের সেনাবাহিনী এত বড় দায়িত্ব নিতে কতটা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে কতটা আগ্রহী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে, আনাদোলু এজেন্সির সংবাদে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে চলমান লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে তারা বলেছে, কোনো শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাশেম বলেন, ইসরায়েলকে কোনো শর্ত ছাড়াই লেবানন ছেড়ে চলে যেতে হবে। লেবাননের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ধরনের কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অধিকার কারও নেই।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান জানায়, মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু তথাকথিত ইয়েলো লাইন বা অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন। এপ্রিল মাসে নির্ধারিত এই কাল্পনিক রেখাটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার লেবাননের ভেতরে বিস্তৃত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৯ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন