Logo

আন্তর্জাতিক

দুই সেনা হারানোর পর ইরানে বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫

দুই সেনা হারানোর পর ইরানে বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের ওপর চালানো হামলার সময় একটি অজ্ঞাত স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ছবি: রয়টার্স

জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই সেনা নিহত ও আরেকজন নিখোঁজ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিমান হামলা শুরু হয়।

বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রতি ইরানের হুমকির সক্ষমতা আরও হ্রাস করতে আর জর্ডানে আমেরিকান সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে দ্রুত শাস্তি দিতে এই আক্রমণগুলোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তারা আরও জানায়, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক বাহিনীর উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে, সামুদ্রিক সক্ষমতাগুলোতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগারগুলোতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বাহিনীগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে।

পরে আরেক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশনায় ইরানের বিরুদ্ধে টানা অষ্টম রাতের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকের কাছে একটি হামলা হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো হতাহত বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর হয়নি।

আল জাজিরা আরেক ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের কেশম দ্বীপে আরও এক দফা হামলা চালিয়েছে। দ্বীপটিতে অন্তত ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কোথায় আঘাত হানা হয়েছে তা খুঁজে দেখতে ও সেখানে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে জরুরি, নিরাপত্তা ও উদ্ধার অভিযান চালাতে সক্ষম দলগুলোকে মোতায়েন করা হয়েছে।

হরমোজগান প্রদেশের গভর্নর কেশম দ্বীপে হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। হরমুজ প্রণালির নিকটে অবস্থিত কেশম ইরানের বৃহত্তম দ্বীপ।

বন্দর আব্বাস শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হরমোজগান শহরের হাজিয়াবাদ ও সিরিকের মতো আরও কয়েকটি শহরে হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তাসনিম আরও জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খুজেস্তানের শাদেগান শহরের নিকটবর্তী একটি এলাকায়ও হামলা চালিয়েছে।

খুজেস্তানের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগের দলগুলো ঘটনাস্থলে আছে। তারা পরিস্থিতি ও কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরে তার বিস্তারিত জানাবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, অন্তর্বর্তী চুক্তিটি বারবার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র এটি প্রমাণ করেছে যে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ‘কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন শত্রুরা এখন সংঘাত বাড়িয়ে তুলতে চাইছে। এর ফলে তাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে এবং আরও বেশি অপমানিত হতে হবে। তাদের জেনে রাখা উচিত যে ইরানের বীর জাতি এবং রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট তাদের এমন এক জবাব দিতে পারে, যেটা তারা ভুলতে পারবে না। তবে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, ‘বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা রইল। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।’

এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু গত সপ্তাহে তা ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে দুপক্ষই হামলা, পাল্টা হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে চলছে আর তাতে তারা আবার পূর্ণ যুদ্ধে ফিরে যেতে পারে এমন সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন