জরুরি অবস্থা জারি
সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডে দক্ষিণ কোরিয়ায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:২১
চলতি মৌসুমে রেকর্ড ভাঙা তৈরি করা মারাত্মক তাপদাহের কবলে পড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাপমাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায় ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের “অবিলম্বে” ঘরের বাইরের সব ধরনের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছাড়া ঘরে থাকাও সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জীবন বিপন্নকারী হয়ে উঠেছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সরকার।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা
(কেএমএ) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি
সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু করার পর এটিই দেশটির
ইতিহাসে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
ইয়াংসান ছাড়াও দাইগু এবং বুসানের মতো
প্রধান শহরগুলোতে তাপমাত্রা উচ্চ-৩০ এর ঘরে অবস্থান করছে। রাজধানী সিউল থেকে ২৪০ কিলোমিটার
দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গিয়ংজু শহরে তাপমাত্রা ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়েছে,
যা গত আট বছরের মধ্যে শহরটির সর্বোচ্চ। পিয়ংইয়ং সহ উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন স্থানেও
৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে টানা এক সপ্তাহ ধরে রাতের
তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির ২০টিরও বেশি
অঞ্চলে নতুন চালুকৃত ক্যাটাগরির 'জরুরি তাপদাহ সতর্কতা' জারি করা হয়েছে। যখন কোনো এলাকার
অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তখন
এই লাল সতর্কতা জারি করা হয়। জরুরি বার্তায় আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, ঘরের বাইরের সব ধরনের
কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করুন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ঘরের ভেতরের পরিবেশও
এখন বিপজ্জনক। দ্রুত ডেডিকেটেড কুলিং সেন্টার বা ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় নিন এবং শরীর
হাইড্রেটেড রাখুন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার
বেসবল লিগ (কেবিও) চানগন শহরে তাদের পরপর দুটি ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। দর্শকদের
নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তীব্র গরমে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে
পারছে না। সিউলের রাস্তায় স্থাপিত মিস্ট-স্প্রে (জলীয় বাষ্প ছেটানো) জোনগুলোতে কিংবা
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাফে ও শপিং মলগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। দক্ষিণ
কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী এক বিশেষ আদেশে স্থানীয় প্রশাসনকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করা এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, বৈশ্বিক
উষ্ণায়ন ও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপদাহের প্রকোপ ও তীব্রতা
আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কেএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে দেশটিতে বার্ষিক গড় তাপদাহের
দিন (যেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকে) দ্বিগুণ বেড়ে
১৯ দিনে দাঁড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশকে উত্তপ্ত করার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া
'এল নিনো' চলতি বছর পুনরায় ফিরে আসায় পুরো পূর্ব এশিয়াজুড়ে এই দাবানলতুল্য তাপদাহ ছড়িয়ে
পড়ছে। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব চীন উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়া টাইফুন 'ডলফিন'-এর গতিপথের
ওপর নির্ভর করছে এই তাপদাহ কতদিন স্থায়ী হবে। টাইফুনটি চীনের দিকে এগোলে কোরিয়ায় আর্দ্রতা
বেড়ে তাপদাহের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

