ইউক্রেনের জন্য
জরুরিভিত্তিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি ন্যাটোর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫০
রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার পর ইউক্রেনকে "জরুরিভিত্তিতে" প্রয়োজনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। গত বুধবার রাশিয়ার চালানো এক ভয়াবহ হামলায় ইউক্রেন একটিও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে না পারার পর এই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, আসন্ন শীত মৌসুমকে সামনে রেখে মস্কো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের
এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রকাশ্য ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ
করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, পশ্চিমা মিত্রদের থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ কমে যাওয়াটা
কেবল কৌশলগত ঘাটতি নাও হতে পারে, বরং এটি শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বাধ্য
করার কোনো কূটনৈতিক কৌশলও হতে পারে।
ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে
বৈঠকের পর জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, "আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে এখনই প্রয়োজনীয়
রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইউরোপ এবং আমেরিকার সহযোগীদের সিদ্ধান্তের ওপর ইউক্রেনের
মানুষের জীবন সরাসরি নির্ভর করছে।"
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভোরে রাশিয়া
ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন দিয়ে
ব্যাপক হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর প্রাথমিক
তথ্যমতে, ৯৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটিকেও
ঠেকানো যায়নি।
জেলেনস্কি জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬
সালের প্রথমার্ধে মিত্রদের কাছ থেকে বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ কমে প্রায়
এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষায়
এই ধসের প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েল
ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে সেখানে বিপুল পরিমাণ 'প্যাট্রিয়ট' ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র
ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর
পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট মজুদ অন্তত ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। যদিও পেন্টাগন দাবি
করছে তাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। লখিদ মার্টিন ২০২৫
সালে ৬০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করলেও বিপুল চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত।
এদিকে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের
প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনুভ।
তিনি জানান, রাশিয়া এখন প্রতি মাসে প্রায়
১০০টি করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও উৎক্ষেপণে সক্ষম, যা দিয়ে তারা ইউক্রেনের
লজিস্টিক হাব, শিল্প কারখানা ও খাদ্য গুদামগুলোতে আঘাত হানছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধ
এখন আরও কঠিন ও ক্ষয়িষ্ণু ধাপে প্রবেশ করেছে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মতে, রাশিয়ার
ইস্কান্দার-এম, এস-৪০০ এবং জিরকন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার মতো একমাত্র
কার্যকর ব্যবস্থা হলো মার্কিন তৈরি 'প্যাট্রিয়ট' সিস্টেম। কিন্তু পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর
না থাকায় এবং একই সাথে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও ডিকয় (নকল ক্ষেপণাস্ত্র) দিয়ে রাশিয়া
জটিল আক্রমণ করায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে
জার্মানিতে ইউরোপের প্রথম প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনকে নিজেদের দেশেই প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প
প্রশাসনের কাছ থেকে মিশ্র বার্তা পাওয়া গেছে। প্রথমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প লাইসেন্স দেওয়ার কথা বললেও পরে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দেন।
তবে রয়টার্সের তথ্যমতে, ওয়াশিংটন এখনো
ইউক্রেনকে যন্ত্রাংশ তৈরির অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, ইউক্রেনে এই প্রযুক্তি চালু হতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে, অথচ ইউক্রেনের
আকাশে এই মুহূর্তে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

