জন্মসূত্রে
মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫০
সংবিধান প্রদত্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুবিধায় ফের আঘাত হানার চেষ্টা শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অনিবন্ধিত অভিবাসী ও অস্থায়ী বিদেশি বাসিন্দাদের সন্তানদের স্বয়ংস্ক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রথম পদক্ষেপটি সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবার নতুন দুই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
এই আদেশের মূল লক্ষ্য হলো
স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্যদের পরিধি আরও বাড়ানো এবং তথাকথিত "বার্থ
ট্যুরিজম" বা নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে প্রসূতি ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। হোয়াইট
হাউসের এই পদক্ষেপে দেশজুড়ে নতুন করে এক জটিল আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্ম হতে
যাচ্ছে।
নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসনবিরোধী
প্রচারণার অংশ হিসেবে ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা বাতিলের প্রতিশ্রুতির ওপর
জোর দিয়েছিলেন। তবে গত ৩০ জুন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের মতে
সিদ্ধান্ত দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায়
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় যেকোনো শিশুই নাগরিক অধিকারের যোগ্য।
সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়কে
"অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক" আখ্যা দিয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের
কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত অন্যায় ছিল। তাই
আমরা কিছু সমন্বয় বা পরিবর্তন আনছি। মানুষ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে একটা তামাশায় পরিণত
করেছে এবং একে কেন্দ্র করে ব্যবসা গড়ে তুলছে। আমরা এমনটা হতে দিতে পারি না।
স্বাক্ষরিত প্রথম নির্বাহী
আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে অযোগ্যদের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের নির্দেশনা
দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে চতুর্দশ সংশোধনীর কিছু ব্যতিক্রমী নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি
রাষ্ট্রের প্রধান বা কূটনীতিকদের সন্তান, শত্রু দেশের দখলদার বাহিনীর সন্তান এবং বিদেশি
পতাকাবাহী জাহাজে জন্ম নেওয়া শিশুরা স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পায় না। হোয়াইট হাউসের
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার স্টিফেন মিলার
জানান, নতুন নির্দেশের মাধ্যমে এই তালিকায় বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যের সন্তান
ও বিদেশি সরকারের হয়ে লবিং বা প্রতিনিধিত্বকারীদের যুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া, নথিপত্রে
জালিয়াতি বা মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের সন্তানদের
ক্ষেত্রেও এই সুযোগ স্থগিতের কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটি
সরাসরি আক্রমণ করেছে "বার্থ ট্যুরিজম" বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব
দেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী মায়েদের সফরকে। ট্রাম্প দাবি করেন, প্রতি বছর লাখ লাখ লোক
এই সুবিধার অপব্যবহার করছে। যদিও 'মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট'-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি
বছর মে মাসে কিংবা পুরো বছর মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২২,০০০ থেকে ২৬,০০০ শিশু এ পদ্ধতিতে জন্ম
নিতে পারে, যা দেশের মোট জন্মহারের ১ শতাংশের চেয়েও কম। নতুন নির্দেশে সব প্রশাসনিক
সংস্থাকে এ ধরনের ব্যবসায়িক চক্র ও ভ্রমণ আয়োজকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পর্যটন ভিসার নামে সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণকে
আগেই ভিসা জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হতো, ফলে এই আদেশের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সংশয়
রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন
পদক্ষেপকে আবারও সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ
ইউনিয়ন সহ দেশের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ইমিগ্র্যান্টস রাইটস প্রজেক্টের উপ-পরিচালক কোডি ওফসি বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট
ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংবিধানের মূল কাঠামোর
অংশ। নতুন করে কোনো নির্বাহী আদেশ তৈরি করে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। ট্রাম্পের
এই আদেশও শেষ পর্যন্ত আদালতে আটকে যাবে।" সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আইনি ফাঁকফোকর
ব্যবহার করে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করার এই সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা আমেরিকার রাজনীতিতে
নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

