বেশির ভাগ বাংলাদেশি ও সুদানি
গ্রিসের উপকূলে দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪
ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক অভিযানে ২০০-এর বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড। লিবিয়া উপকূল থেকে নৌকায় করে আসা এসব অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশি, সুদানি ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ডিমোক্রেটিয়ার বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ক্রিটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আইয়েরাপেত্রা এলাকায় ৪০ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকার সন্ধান পায় ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান।
পরে খবর পেয়ে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও একটি মাছ ধরার নৌকা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। নৌকায় থাকা ৪০ জনকেই নিরাপদে তীরে আনা হয়। পরে তাদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেও দুটি নৌকা থেকে ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথম নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।
অন্য নৌকাটিতেও ৫৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং নয় জন মিসরের নাগরিক। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া আরও ৪০ জনকে যুক্ত করলে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০২ জনে।
উদ্ধার করা ব্যক্তিদের হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় তাদের সাময়িক আশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপও বাড়ছে।
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য ক্রিট গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হয়ে উঠেছে। ফলে দ্বীপটির উপকূলে নিয়মিত উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে গ্রিক কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ। ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ২৮ দশমিক পাঁচ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি অভিযানে ৫০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কিশোরটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিবাসীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই কিশোর লিবিয়ার তবরুক শহর থেকে গ্রিসের দিকে যাওয়ার সময় নৌযানটি চালাচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার মার্কিন ডলার নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

