থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:১২
ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলীয় ননথাবুরি এলাকার একটি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর দেশজুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ইস্যু করা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে থাইল্যান্ড সরকার। একই সাথে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ১৪ বছর বয়সী কিশোর ও তার হাতে নির্মমভাবে নিহত নানানানির দেহ বৌদ্ধ রীতি অনুযায়ী দাহ করা হয়েছে।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল
দেশের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করা এবং অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির
নির্দেশ দিয়েছেন। থাইল্যান্ডের সরকারি গণমাধ্যম এনবিটি ওয়ার্ল্ড -এর তথ্য অনুযায়ী,
যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি নতুন ও শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ হচ্ছে,
ততক্ষণ এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় কিশোর হামলাকারীসহ
মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রথমে
তার নিজ বাড়িতে লালন-পালন করা নানানানিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি
নিয়ে নিজের স্কুলে গিয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মী এবং ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে গুলি
করে হত্যা করে। পরবর্তীতে সে নিজেকেও গুলি করে আত্মহত্যা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন
থাকার পর শনিবার হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি।
এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও থাইল্যান্ডে
শপিং মল ও স্কুলে একাধিক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে একই বয়সের এক কিশোর
একটি শপিং মলে একই কায়দায় হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা করেছিল। প্রতিবারই কঠোর ব্যবস্থার
আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডেই
বেসামরিক মানুষের হাতে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। স্মল আর্মস সার্ভে -র তথ্যমতে,
দেশটিতে ১ কোটিরও বেশি বেসামরিক অস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লক্ষই বেআইনি বা
অনিবন্ধিত।
সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, নির্দিষ্ট
সময়ের মধ্যে অবৈধ বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বেআইনি অস্ত্র জমা দিলে কোনো শাস্তি
দেওয়া হবে না। এছাড়াও, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ে অস্ত্র কেনার সুবিধা
প্রদানকারী ওয়েলফেয়ার গান প্রকল্পের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, উক্ত কিশোর ইন্টারনেটে সহিংস ভিডিও দেখতো এবং স্কুলে সহপাঠীদের
দ্বারা বুলিং ও পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগছিল।
নিহত কিশোরের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, আমি
একাধারে হতবাক ও অপরাধবোধে ভুগছি। আমি একই দিনে নিজের সন্তান এবং নিজের বাবা-মাকে হারিয়েছি।
ইতোমধ্যেই দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব স্কুলে ঢোকার আগে মেটাল ডিটেক্টর ও নিরাপত্তারক্ষী
দিয়ে তল্লাশি নিশ্চিত করার নতুন নীতিমালা চালু করেছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের মানসিক
স্বাস্থ্য সহায়তায় জোর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

