মেলন-গেট বিতর্ক
অ্যালবানিজের বিরুদ্ধে এএফপি তদন্তের দাবি বিরোধীদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৩
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজের জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কাছ থেকে পাওয়া তরমুজ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে তৈরি বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ জাপান।
ক্যানবেরায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত
কাজুহিরো সুজুকি জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে টোকিওকে আশ্বস্ত করা হয়েছে
যে প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ গণমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাখ্যার মতো কোনো আপত্তিকর মন্তব্য
করেননি। জাপানের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই বিষয়টি কোনো কূটনৈতিক সংকট তৈরি না করলেও অস্ট্রেলিয়ার
বিরোধী দল কোয়ালিশন এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে রাজনীতি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে এখন মেলন-গেট
নামে পরিচিত এই ঘটনাটি মূলত শুরু হয় গত জুলাই মাসে বুশ ডিপ নামের একটি কমেডি পডকাস্টে
অ্যালবানিজের দেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে। সাক্ষাৎকারে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির
উপহার দেওয়া দুটি বিলাসবহুল তরমুজের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বুকের সামনে অঙ্গভঙ্গি
করেন।
পডকাস্টের সঞ্চালক কৌতুকভিনেত্রী নিকি
অসবর্ন সেখানে এক যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেও অ্যালবানিজ সংসদকে জানান যে জাপান
ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর পূর্ণ
সম্মান রয়েছে।
ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় যখন দ্য অস্ট্রেলিয়ান
পত্রিকায় তৎকালীন ঘটনা সম্পর্কিত একটি গোপন কূটনৈতিক নথির তথ্য প্রকাশ পায়। নথি অনুযায়ী,
ঘটনার পরপরই টোকিও স্পষ্ট করেছিল যে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের খবরকে অতিরঞ্জিত করা
হয়েছে এবং অ্যালবানিজের কথায় কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তবে বিরোধী দলীয় নেতা
অ্যাঙ্গাস টেলর ও কোয়ালিশনের জ্যেষ্ঠ নেতারা এই গোপন নথিটি সংবাদমাধ্যমে কীভাবে ফাঁস
হলো তা নিয়ে সরব হয়েছেন। তারা অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)-কে এই বেআইনি
নথি ফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জড়িত কি না তা তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের মন্ত্রীরা বিরোধীদের
এই পদক্ষেপকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবাসন মন্ত্রী ক্লেয়ার ও'নিল
বলেন, বিরোধী দল সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ও অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুতে মেতে আছে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী
জেসন ক্ল্যার এটিকে বাজে কথা হিসেবে উড়িয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ নিজেও নিশ্চিত
করেছেন যে এএফপি একটি স্বাধীন সংস্থা এবং তারা নিজস্ব বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
জাপান সরকার ও রাষ্ট্রদূতের এই স্পষ্টীকরণের পর ঘটনাটির রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই কমে
এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

