জিম্বাবুয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে নিহত ১৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৪
জিম্বাবুয়ের বিখ্যাত কারিবা হ্রদে এক ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অতিরিক্ত যাত্রী ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে ফেরিটি উল্টে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির 'সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট' জানিয়েছে,
মঙ্গলবার তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়।
উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত অন্তত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া সীমান্তে অবস্থিত
কারিবা হ্রদটি মূলত আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। রাজধানী হারারে
থেকে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই হ্রদটি ১৯৯০-এর দশক থেকেই স্থানীয়
দ্বীপ ও মৎস্য কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৯০
জন যাত্রী ধারণক্ষমতার ওই ফেরিটিতে অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল।
নিবন্ধিত টিকিট অনুযায়ী ফেরিতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী এবং ৫ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
তবে টিকিটের হিসাবের বাইরে অনেক শিশুও ছিল, যাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো অনিশ্চিত।
প্রত্যক্ষদর্শী মাক্সটন কানহেমা জানান,
প্রচণ্ড খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি ছেড়ে গিয়েছিল। হঠাৎ বিশাল একটি ঢেউ এসে আঘাত
করলে ফেরির ইঞ্জিন অচল হয়ে পড়ে। এরপরই আতঙ্কিত যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের নৌকাগুলো
সহায়তায় এগিয়ে আসে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জিম্বাবুয়ে জাতীয়
পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। 'মাতুসোডোনা
ন্যাশনাল পার্ক'-এর পক্ষ থেকে হেলিকপ্টার পাঠায় উদ্ধারকাজে গতি আনতে। তবে তীব্র প্রতিকূল
আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়, যা প্রাণহানির
সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পানির নিচে উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে
বিশেষ ডুবুরি দল হ্রদে নামানো হয়েছে। নৌ দুর্ঘটনা ও ওভারলোডিং জিম্বাবুয়েসহ আফ্রিকার
বেশ কয়েকটি দেশে নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর নৌযান
নিরাপত্তা আইন কঠোর করা এবং বেআইনি যাত্রী পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
জোরালো হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

