টোকিওর ইয়াসুকুনি মন্দিরে সামরিক পোশাক নিষিদ্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:০২
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে টোকিওর অতি-বিতর্কিত 'ইয়াসুকুনি' সনাতন শিন্টো মন্দিরে সামরিক বা যুদ্ধের পোশাক পরে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরমপন্থী ও জাতীয়তাবাদী
গোষ্ঠীগুলোর সামরিক পোশাক এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তৎকালীন রেপ্লিকা ইউনিফর্ম পরে
মন্দিরে মহড়া ও কসপ্লে বাড়তে থাকায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। খবর
দ্য গার্ডিয়ানের।
ইয়াসুকুনি মন্দির কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে
প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মন্দিরটি একটি অত্যন্ত গম্ভীর ও পবিত্র স্থান।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আট দশক পার হয়ে যাওয়ায় প্রকৃত যোদ্ধাদের উপস্থিতি এখন নেই বললেই
চলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রকার যোগ্যতা বা সম্পৃক্ততা ছাড়াই সাধারণ দর্শনার্থীদের
সামরিক পোশাক পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এই নিষেধাজ্ঞা
শুধু বার্ষিকীর দিনেই নয়, বরং বছরজুড়েই বলবৎ থাকবে। প্রথমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর কিছুটা
বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং ধারণা করা হয়েছিল যে এতে হয়তো জাপানের বর্তমান সশস্ত্র বাহিনী
বা সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস -এর সদস্যরাও বাধার মুখে পড়বেন। পরবর্তীতে এক স্পষ্টীকরণে
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং বিদেশি সামরিক বাহিনীর
কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
১৯ শতক এবং ২০ শতকের বিভিন্ন যুদ্ধে প্রাণ
হারানো প্রায় ২৫ লাখ জাপানি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকের স্মরণে তৈরি করা হয় এই ইয়াসুকুনি
মন্দির। তবে এটি বিতর্কিত হয়ে ওঠে কারণ এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তির
বিচারে দোষী সাব্যস্ত ১৪ জন 'ক্লাস-এ' যুদ্ধাপরাধীর নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চীন,
দক্ষিণ কোরিয়াসহ পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের কাছে এই মন্দিরটি জাপানের উগ্র সামরিকবাদ,
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং যুদ্ধকালীন নৃশংসতার এক তীব্র প্রতীক।
জাপানি কোনো প্রধানমন্ত্রী বা জ্যেষ্ঠ
রাজনীতিক যখনই এই মন্দিরে শ্রদ্ধা জানাতে যান, তখনই বেইজিং ও সিউলের পক্ষ থেকে তীব্র
কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়। এমনকি যুদ্ধের সময়কালীন জাপানি সম্রাট হিরোহিতো নিজেও
যুদ্ধাপরাধীদের অন্তর্ভুক্তির বিতর্কের পর থেকে ইয়াসুকুনি পরিদর্শনে যাওয়া বন্ধ করে
দিয়েছিলেন। এর পরিবর্তে জাপানি রাজপরিবার রাজপ্রাসাদের কাছে অবস্থিত 'চিদোরিগাফুচি
জাতীয় সমাধিসৌধে' গিয়ে যুদ্ধাহত ও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে।
১৫ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের
পরাজয় এবং মিত্রশক্তির জয়ের বার্ষিকী পালন করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবেই এই দিনে জাপানের
কট্টরপন্থী নেতারা এখানে জড়ো হন। সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী
সানা তাকাইচি—যিনি তার কট্টরপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য পরিচিত—চলতি বছর বার্ষিকী
উপলক্ষে এই মন্দিরে পরিদর্শনে নাও যেতে পারেন, যদিও গত বছর তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা বজায়
রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

