অস্ট্রেলিয়াজুড়ে হ্যানসনবিরোধী বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ঢল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৩
বর্ণবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাসরুম ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার হাজার হাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ডানপন্থী 'ওয়ান নেশন' পার্টির প্রধান পোলিন হ্যানসনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও বর্ণবাদী রাজনীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে এই সুবিশাল 'ওয়াকআউট' ও বিক্ষোভের আয়োজন করে ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মেলাবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেনসহ অস্ট্রেলিয়ার
প্রধান প্রধান শহরগুলোতে লাখো শিক্ষার্থী সমবেত হয়ে বর্ণবাদীদের ঠাঁই নেই কিংবা আমরা
সাম্য চাই —এমন নানা ব্যানার
ও স্লোগানে মুখরিত করে তোলে চারপাশ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী
কায়লি জানায়, তারা পরিবারকে চার পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ লিখে বুঝিয়ে এই মিছিলে এসেছে।
কায়লির মতে, মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া বন্ধ করতে হবে।
হ্যানসনের মতো উগ্র রাজনীতিকদের আমাদের
ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেওয়া যায় না। সিডনির বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া গ্রিনস পার্টির
নেত্রী জেনি লিওং বলেন, কয়েক দশক আগেও এক কিশোরী হিসেবে আমি এই হ্যানসনের বর্ণবাদী
এজেন্ডার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলাম। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আজও আমাদের এই একই ঘৃণার
বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।
বিক্ষোভ চলাকালে বেশ কয়েকটি জায়গায়
উগ্র ডানপন্থী সমর্থক ও কট্টরপন্থীদের সাথে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা হয়। মেলবোর্নে
স্বঘোষিত ডানপন্থী সাংবাদিক অ্যাভি ইয়েমিনি তার সমর্থকদের নিয়ে জমায়েতে ঢোকার চেষ্টা
করলে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রিসবেন ও সিডনিতে বেশ
কয়েকজন হ্যানসন সমর্থককে পুলিশ সরিয়ে নেয়।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই ক্লাস বর্জন নিয়ে
রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী
জেসন ক্ল্যার এবং ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার বেন ক্যারল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার
আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিবাদ করতে চাইলে উইকএন্ডে (ছুটির দিনে)
করুন, কিন্তু ক্লাসের সময় স্কুলে থাকা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায়
পোলিন হ্যানসন নিজেই দাবি করেন যে, শিক্ষার্থীরা আসল সমস্যা যেমন—জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি
ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে আন্দোলন না করে বিভ্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ওয়ান নেশন দল আসলে
তোমাদের ভবিষ্যতের জন্যই লড়াই করছে।
তবে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকাশ
নাগরাজন হ্যানসনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, শিক্ষা ঋণের বিরোধিতা এবং বিনামূল্যে
কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বন্ধের পেছনে হ্যানসনের ভূমিকা স্পষ্ট।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে পোলিন হ্যানসনের
উত্থান এবং তার দল ওয়ান নেশন -এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি বর্তমানে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে
দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক রয় মরগান জরিপ অনুযায়ী, হ্যানসনের দলের প্রাথমিক সমর্থন
বেড়ে ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
হ্যানসন সম্প্রতি ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব
-এ দেওয়া বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়াকে একটি একক সংস্কৃতির দেশ বানানোর বিতর্কিত আহ্বান
জানান। এছাড়া যুক্তরাজ্য সফরের সময় বিতর্কিত চরমপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসনের
পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচিত হন তিনি। যদিও তার দলের এমপি রিকি-লি
টাইরেল বর্ণবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাদের দলে সব ধরণের বৈচিত্র্যময়
মানুষের সমর্থন রয়েছে। তবে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বর্ণবাদ
ও বিভাজনের রাজনীতি মুক্ত এক নতুন, মানবিক অস্ট্রেলিয়া গড়তেই তাদের এই রাজপথের সংগ্রাম।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

