সতর্কতা জারি
জাপানে স্মরণকালের ভয়াবহ বৃষ্টিপাতে নিহত ৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৫
জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় চিবা প্রিফেকচারে স্মরণকালের ভয়াবহ ও নজিরবিহীন মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী নারিটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৭,০০০ যাত্রী সারা রাত আটকে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন ৪ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার (ইভাকুয়েশন) নির্দেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অতিবৃষ্টিতে
চিবা প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত
রেকর্ড করা হয়—যা সাধারণত পুরো আগস্ট মাসে এই
অঞ্চলে হওয়া মোট বৃষ্টিপাতের সমান। প্রবল বৃষ্টিপাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে,
জাপান আবহাওয়া সংস্থা এই অঞ্চলের জন্য ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ 'লেভেল-৫'
ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়। অতিবৃষ্টির ফলে দেখা দেওয়া বিদ্যুৎ
বিভ্রাটে প্রায় ৪৫,০০০ ঘরবাড়ি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
আকস্মিক বন্যায় নিহতের ঘটনাগুলোর মধ্যে
রয়েছে ইচিকাওয়া শহরে এক ব্যক্তির প্লাবিত রাস্তা থেকে মরদেহ উদ্ধার, যার বয়স ৬০
থেকে ৭০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সাকুরা শহরে বন্যা ও জলের তোড়ে গাড়ি
আটকা পড়ে ৬৬ বছর বয়সী এক নারী সহ আরও দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুর্গতদের
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে জাপানি সেনা সদস্যদের
(সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস) মোতায়েন করা হয়েছে। চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই
এক বিবৃতিতে বলেন, আমি ক্যারিয়ারে অনেক দুর্যোগের মোকাবেলা করেছি, কিন্তু এমন চরম
ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আগে কখনও দেখিনি।
ভারী বৃষ্টির ফলে চিবা ও পার্শ্ববর্তী
এলাকার গণপরিবহন ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যম
এনএইচকে -এর প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, চিবায় ম্যানহোল থেকে জলের ফোয়ারা এত প্রচণ্ড
শক্তিতে উপচে উঠছিল যা পাশের পাঁচতলা ভবনের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যায়। গণপরিবহন বন্ধ
থাকায় বিমানবন্দর ছাড়াও চিবা প্রিফেকচারাল গভর্নমেন্ট ভবনে প্রায় ১,৭০০ মানুষ সাময়িক
আশ্রয় নিয়ে রাত কাটান।
শুক্রবার সকালের দিকে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা
কিছুটা কমলেও নদীগুলোর জলস্তর বিপজ্জনক অবস্থায় থাকায় নতুন করে বন্যা ও ধসের ঝুঁকি
থেকেই যাচ্ছে। জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি কাজুহিতো
শিমামোতো সর্বসাধারণকে সতর্ক করে বলেছেন, যেসব নদীর জলসীমা ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক রূপ
নিয়েছে, সেখানকার অধিবাসীদের নিজস্ব সুরক্ষায় অবিলম্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া
উচিত। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে, তাই স্থানীয় পৌরসভার পরামর্শ
মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদদের মতে, বিশ্বব্যাপী
জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের কারণেই জাপানে ইদানীং চরম আবহাওয়া, হঠাৎ অতিরিক্ত
বৃষ্টিপাত এবং তাপদাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে
বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

