পদত্যাগের পর উপ-নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের জয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৭
নিজের পদত্যাগের পর সৃষ্ট উপ-নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। তবে ক্ল্যাকটন আসনের এই উপ-নির্বাচনে প্রতিপক্ষদের বড় কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়া সহজ জয় পেলেও আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই প্রভাবশালী ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতাকে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ফারাজ ২২,২৩৯
ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ
না দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অনেকটাই একপেশে। তবে ফলাফল ঘোষণার মুহূর্তে নিজে উপস্থিত
না থেকে এক বিবৃতিতে ফারাজ দাবি করেন, নির্বাচনকে অচল করার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র
ছিল এবং তিনি নামহীন কোনো ব্যক্তির হাতে অপমানিত হতে চাননি।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে ফারাজ নিজের অবস্থান
ও জনপ্রিয়তা প্রমাণের চেষ্টা করলেও, নির্বাচনটি আয়োজন করতে ক্ল্যাকটন পৌরসভার খরচ হয়েছে
প্রায় ২,৫০,০০০ পাউন্ড (প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা), যা ইংল্যান্ডের অন্যতম দরিদ্র
একটি এলাকার জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়েছে বলে সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা। বিরোধী
লেবার পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টি এই নির্বাচনকে ফারাজের ব্যক্তিগত সস্তা জনপ্রিয়তা
পাওয়ার চেষ্টা এবং নিজের আর্থিক বিতর্ক ঢাকা দেওয়ার কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ফারাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিপ্টো-বিলিয়নিয়ার ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৮০ কোটি টাকা) গোপন অনুদান। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক পূর্বে প্রাপ্ত এই বিশাল অঙ্কের অনুদানটি পার্লামেন্টের রেজিস্টারে জমা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনারের তদন্ত পুনরায় শুরু হয়েছে। এর আগে ফারাজ গত জুলাইয়ে পদত্যাগ করায় তদন্তটি স্থগিত ছিল, যা এখন জয়ের পর ফের চালু করা হলো।
ফারাজ অবশ্য এই তদন্তকে একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। এখানেই শেষ নয়,
দলটির বড় অঙ্কের অনুদান ও আর্থিক উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালাচ্ছে মেট পুলিশ।
পাশাপাশি, ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার জালিয়াতির অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত জর্জ
কট্রেল -এর কাছ থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও লন্ডনে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ব্যবহারের সুযোগ
সুবিধাসহ নানা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফারাজের বিরুদ্ধে।
উপ-নির্বাচনে জয় সত্ত্বেও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় স্তরে নাইজেল ফারাজের গ্রহণযোগ্যতা আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। জনমত জরিপকারী সংস্থা মোর ইন কমন -এর প্রধান লুক ট্রাইল জানান, গত বছরের এই সময়ে যেখানে ফারাজের জনপ্রিয়তার গ্রাফ ছিল শীর্ষে, চলতি মাসে তা সাধারণ নির্বাচনের পর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিকই ফারাজের আর্থিক কেলেঙ্কারি
ও তদন্তের ব্যাপারে অবগত, যা তার মূল ভোটার ঘাঁটিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদিও রিফর্ম
ইউকে দলকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে সমর্থ হয়েছেন ফারাজ, তবে সামনের
দিনগুলোতে এই মেট পুলিশ ও পার্লামেন্টারি তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে তার রাজনৈতিক
ভবিষ্যৎ। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে এই আসনে ফের দ্বিতীয়বারের মতো উপ-নির্বাচনের মুখোমুখি
হতে হতে পারে ফারাজকে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

