জাম্বিয়ায় দ্বিতীয় মেয়াদের দৌড়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৮
দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের মেয়াদে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমানে দেশজুড়ে ভোট গণনা চলছে এবং প্রায় ৮৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটার এখন চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম
পর্বেই এককভাবে বিজয়ী হতে হলে যেকোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫০
শতাংশের বেশি পেতে হবে। অন্যথায় আগামী ৩৭ দিনের মধ্যে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয়
দফার 'রান-অফ' নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী লুসাকা সহ দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে
সকালে বেশ ভিড় ও দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি বেশ শান্তিপূর্ণ
পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রেসিডেন্ট
পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইটি দ্বিমুখী রূপ নিয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট
৬৪ বছর বয়সী হাকাইন্ডে হিচিলেমা—যাকে স্থানীয়রা ভালোবেসে 'এইচএইচ' বলে ডাকেন—এবং
তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্ডুবিলে। মুন্ডুবিলে ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ক্ষমতায়
থাকা 'প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট' সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি সাবেক প্রয়াত
প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর সমর্থকদের জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ভোটপ্রদানের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে
মুন্ডুবিলে বলেন, এটি মূলত আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই। আমি তরুণ ও নারীদের
ক্ষমতায়ন এবং দেশে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে, ২০২১ সালে
ষষ্ঠবারের চেষ্টায় জয়ী হওয়া প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা তার গত পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক অর্জনকে
পুঁজি করে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন। তিনি দেশের ঋণ পুনর্গঠন, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং
খনি খাত পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা
এনেছেন।
তবে দেশটির তরুণ সমাজের মধ্যে বেকারত্ব
ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধি এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে
দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জেমস পিরি বলেন, আমি এইচএইচকে (হিচিলেমা) ভোট
দিয়েছি কারণ তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভাতা পুনরায় চালু করেছেন। বিপরীতে, ৪৭
বছর বয়সী ব্যবসায়ী স্যামুয়েল চিটেন্ডওয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কেবল কাগজ-কলমে
অর্থনৈতিক উন্নতির গল্প শুনে ক্লান্ত। মানুষের জীবনযাত্রার কোনো গুণগত মান বাড়েনি,
তাই আমি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছি।
তাছাড়া, নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বিরোধী দলের ওপর রাজনৈতিক
দমন-পীড়ন ও সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা হ্রাসের অভিযোগ এনেছিল। তবে তা সত্ত্বেও নির্বাচনী
প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দল এবং স্থানীয় বেসামরিক সমাজ দলগুলো
মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে নিশ্চিত
জয় তুলে নেন, নাকি নির্বাচন 'রান-অফ'-এ গড়ায়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

