হোয়াইট হাউসের বিশ্বস্ত ন্যাটালি হার্পকে ঘিরে বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৬
সোনালী চুল, কানে সোনালী দুল আর লাল পোশাকে ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে নিজেকে ক্যালিফোর্নিয়ার এক একাকী ভুলে যাওয়া আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন ন্যাটালি হার্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে
সেদিন তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পের কারণেই তিনি মরণব্যাধি ক্যানসার থেকে বেঁচে আছেন। ছয়
বছর পর, ৩৫ বছর বয়সী এই নারী এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত
সহকারী।
মার্কিন প্রশাসনে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি
স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য প্রেসিডেন্ট পদবীতে কর্মরত। কিন্তু ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ
রাজনৈতিক বলয়ে তার মূল পরিচয় ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ হিসেবে—কারণ ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো
প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রিন্ট করে তার হাতে তুলে দেওয়াই ন্যাটালির অন্যতম
প্রধান কাজ।
সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির উদীয়মান
নেতা ও সিনেটর জন ওসফ এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য
করেন, ট্রাম্প নিজের দায়িত্ব পালন না করে কেবল নিজের বলরুম তৈরি করতে এবং ন্যাটালির
সাথে ঘুরে বেড়াতেই বেশি পছন্দ করেন। ওসফের এই মন্তব্যের পর থেকেই ট্রাম্প ও ন্যাটালি
হার্পের সম্পর্কের ধরন নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়
শুরু হয়েছে। এই জল্পনা-কল্পনার মুখে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক
প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক
ক্রিস্টেন হোমস এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বার্তা প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি বিশ্লেষকদের
মতে, হোয়াইট হাউসের এই অতিরিক্ত এবং আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া বিতর্ক থামানোর বদলে
জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার পয়েন্ট লোমা নাজোরিন
ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং লিবার্টি ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করা ন্যাটালি
হার্প মূলত বোন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর আলোচনায় আসেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১৮
সালে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত 'রাইট টু ট্রাই' আইনের ফলেই তিনি পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ
পান এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে তার এই দাবির সময়ের
অসংগতি তুলে ধরে ট্রাম্পের ভূমিকার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি
ফক্স নিউজ এবং কনজারভেটিভ আউটলেট ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএনএন) উপস্থাপক
হিসেবে কাজ করেন, যেখানে তিনি ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় সংক্রান্ত
ভুয়ো দাবিগুলো প্রচার করতেন।
২০২২ সালে ন্যাটালি সরাসরি ট্রাম্পের প্রচার
দলের সাথে যুক্ত হন। যেকোনো আইনি লড়াই বা নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের পাশে
একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার ও চার্জিং ব্যাকপ্যাক নিয়ে তাকে ঘুরতে দেখা যেত। প্রেসিডেন্ট
হিসেবে ট্রাম্প ওভাল অফিসে ফেরার পরও ন্যাটালি তার অন্যতম অপরিহার্য ছায়াসঙ্গী হিসেবে
রয়ে গেছেন। ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পর্যালোচনা করা থেকে শুরু করে তার মনস্তাত্ত্বিক
অবস্থান তৈরিতেও ন্যাটালির ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু বই ও প্রতিবেদনে
ট্রাম্পের প্রতি ন্যাটালির অন্ধ আনুগত্যের চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে তিনি ট্রাম্পকে
নিজের রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সিনেটর ওসফের মন্তব্যের পর হোয়াইট
হাউসের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার ফলে ন্যাটালি হার্পকে নিয়ে কৌতুহল এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে।
আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এক সহকারী হলেও, ট্রাম্পের
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে এই নারীর প্রভাব ঠিক কতখানি, তা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক
অঙ্গনে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

