Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নির্দেশে

বন্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৯

বন্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের পথ প্রশস্ত করতে এবং মহড়ার বিপুল খরচ কমানোর অজুহাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া হঠাৎ সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ওয়াশিংটনের অনুরোধে দীর্ঘদিনের সময়সূচি কাটছাঁট করে যৌথ সামরিক মহড়া নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএস)। যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক অস্বস্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বার্ষিক এই সামরিক মহড়া উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) গত ১৭ আগস্ট শুরু হয় এবং ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী চলার কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২১ আগস্ট শুক্রবারই এই মহড়া শেষ হয়ে যাচ্ছে। সিউলের প্রতিরক্ষা সূত্রমতে, মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়টি ছিল মূলত উত্তর কোরিয়ার যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা আক্রমণের একটি অনুকরণীয় অনুশীলন (সিমুলেশন), যা পিয়ংইয়ং সবসময় তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে এই দ্বিতীয় ধাপটি পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের যৌথ প্রশিক্ষণও বেশ কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের পোস্ট এবং পেন্টাগনকে দেওয়া নির্দেশনার পর থেকেই এই সংকট ঘনীভূত হয়। ট্রাম্প এই মহড়াকে অত্যধিক ব্যয়বহুল এবং পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি উস্কানিমূলক ও শত্রুতাপূর্ণ বলে আখ্যা দেন।

ট্রাম্প আরও জানান যে কিম জং উনের সঙ্গে তার উৎকৃষ্ট ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মধ্যে পুনরায় আলোচনার একটি বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরেই এশিয়ায় আসন্ন এপেক সম্মেলনের ফাঁকে কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের জন্য নিজের প্রশাসনকে তাগিদ দিচ্ছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা সিদ্ধান্তে সিউল সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন পার্লামেন্টে জানান, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে সিউলকে পূর্বাহ্ণে কিছুই জানানো হয়নি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও।

বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, মিত্রদের না জানিয়ে ট্রাম্পের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত দুই দেশের কয়েক দশকের সামরিক জোট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং নিজেদের প্রতিরক্ষায় সামরিক স্বাবলম্বিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

 

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন