ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার সকালে ইউক্রেনের
দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টলাইন শহর খেরসনে একটি যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা
চালায় রুশ বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চারজন যাত্রী নিহত হন। দেশটির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা
এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার পরিকল্পিত ও নৃশংস আক্রমণের অংশ বলে অভিহিত
করেছেন।
খেরসন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্দর প্রোকুদিন
টেলিগ্রামে জানান, সকাল পৌনে নয়টার দিকে চলন্ত একটি বাসে ড্রোনটি আঘাত হানে। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে তিনি রক্তভেজা বাস ও চূর্ণবিচূর্ণ কাচের কিছু অস্পষ্ট ছবি প্রকাশ করে
হতাহতদের হাসপাতালে ভর্তি করার কথা নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনীয়
বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে খেরসন শহর থেকে রুশ বাহিনী পিছু হটলেও দানিপ্রো নদীর অপর পাড়ে
অবস্থান নিয়ে নিয়মিতভাবে শহরটিতে ড্রোন ও কামানের গোলা বর্ষণ করে আসছে। এর বাইরে
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিজিয়ায় পরিচালিত আরেকটি বিমান হামলায় আরও
একজন নিহত এবং সাতজন আহত হন। পাশাপাশি ওডেসা বন্দরের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি
মালবাহী জাহাজে আঘাত হানার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
অন্যদিক, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও ইউক্রেনীয়
ড্রোনের বড় আকারের পাল্টাধাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি
করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী
অন্তত ৪৫৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগার কেন্দ্র
হিসেবে পরিচিত বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রের উফা শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আবাসিক
ভবনে আঘাত হানলে একজন আহত হন এবং একটি শিল্প এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সামান্য
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ
করা হয়েছে যে, গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে চলতি বছর
বেসামরিক প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি
এবং শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা স্তব্ধ হয়ে থাকার মধ্যে দুই পক্ষই তাদের আক্রমণ ও বিমান
হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে, যা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত
ও সংকটময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

