Logo

আন্তর্জাতিক

ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৬

ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইটুরি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। সশস্ত্র সংঘাত, আক্রান্ত রোগী শনাক্তে বিলম্ব এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থার কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রায় তিন মাস আগে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪,৯০০ জনেরও বেশি নিশ্চিত কেস নথিভুক্ত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ২,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মোট প্রাণহানিকেও ছাপিয়ে গেছে।

ডিআর কঙ্গোর ইতুরির মংবোয়ালু জেনারেল হাসপাতালে গত এপ্রিলের শুরুতে অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হওয়া এক রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে তিন স্বাস্থ্যকর্মী মারা যাওয়ার পর প্রথম এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার বহু আগেই অঞ্চলটিতে কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি 'বুন্ডি বুগিও' প্রজাতির ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। জায়ারে প্রজাতির ইবোলার জন্য ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা সেবা উদ্ভাবিত হলেও বুন্ডি বুগিও প্রজাতির জন্য এখনও অনুমোদিত কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ইতুরি প্রদেশটি বহু বছর ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা ও খনিজ সম্পদ দখলের লড়াইয়ে বিধ্বস্ত। বর্তমানে অঞ্চলটি সামরিক বা জরুরি অবস্থার অধীনে রয়েছে। আফ্রিকা সিডিসি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ক্রমাগত গোলাগুলি এবং নিরাপত্তার অভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রত্যন্ত ও উপদ্রুত এলাকাগুলোতে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা স্থানান্তর, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরীক্ষাগারের স্বল্পতার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন করা সম্ভব হয়নি, যা সংক্রমণের শৃঙ্খলকে আরও দীর্ঘ করেছে।

সংক্রমণ রুখতে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ বর্তমানে ইটুরি প্রদেশে ১২টিরও বেশি নতুন ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় সহায়ক চিকিৎসা, প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্রমাগত যুদ্ধাবস্থা এবং স্থানীয়দের মাঝে জাঁকিয়ে বসা আতঙ্কের কারণে কঙ্গোর এই অভূতপূর্ব স্বাস্থ্য সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

 

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন