ভারতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নে উদ্বেগ জাতিসংঘের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১৪
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, বাংলাভাষী মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিপীড়নের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি)। এ বিষয়ে ভারতকে অবিলম্বে, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতে বর্ণবাদী সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অন্যায় ও দীর্ঘমেয়াদি আটক, নির্যাতন, অপব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার মতো নিপীড়নের খবর পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর বিশেষ করে রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্ণবাদী আচরণের ভিত্তিতে করা পুলিশি তল্লাশি ও পরিচয় পরীক্ষার নামে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার ও আটক, এমনকি নির্যাতন ও অপব্যবহারের ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ‘নন-রিফৌলমেন্ট’ (শরণার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত না পাঠানোর আন্তর্জাতিক নীতি) নীতি লঙ্ঘন করে মানুষকে জোর করে ফেরত পাঠানোর ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি।
বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি ভারতকে অবিলম্বে রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অধিকার রক্ষা, ঢালাও বহিষ্কার বন্ধ এবং ‘নন-রিফৌলমেন্ট’ নীতি মেনে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্ণবৈষম্য বিলোপবিষয়ক সনদে ১৮২টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। ১৯৬৯ সালে কার্যকর হওয়া এই সনদ অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই বর্ণবৈষম্য দূর করতে হবে, জাতিগত পৃথক্করণের চর্চা বিলুপ্ত করতে হবে এবং আইনের চোখে সবার সমতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশগুলো এই সনদ কতটা মেনে চলে, তা তদারক করে ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল ইউএনসিইআরডি।
ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণ প্রত্যাখ্যান ভারতের: ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, আজ বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১১-১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত আইসিইআরডির আওতায় ভারতের ১১তম পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার পর বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি যেসব মন্তব্য প্রকাশ করেছে, তা তারা লক্ষ্য করেছে। পুরো পর্যালোচনা প্রক্রিয়াজুড়ে ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা, বিস্তৃত আইনি কাঠামো, বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং অনগ্রসর গোষ্ঠীগুলোর সুরক্ষায় নেওয়া তার ধারাবাহিক উদ্যোগের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

