Logo

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ হচ্ছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ, ২০২৭ সালের প্রস্তুতি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৩

দীর্ঘ হচ্ছে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ, ২০২৭ সালের প্রস্তুতি

# ইরানে সরকার পতনই মূল লক্ষ্য: নেতানিয়াহু

# ইরানকে একঘরে করতে সাহায্য করবে চীন: জেডি ভ্যান্স

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক বিকল্প দিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়াচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরানে এনডিটিভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এখন ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যপূরণ এখন নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে স্বল্পমেয়াদি এবং দ্রুত সমাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু হলেও বর্তমানে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা, ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার স্কোয়াড্রন, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের মেয়াদ ৯ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস এবং ক্ষেত্রবিশেষে এক বছরেরও বেশি করা হয়েছে, যা মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এখন সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক পতনের মুখে দাঁড়িয়ে ইরান এখন অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।

সামনে নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্পের সহযোগীরা যুদ্ধ বিস্তারের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চিন্তিত হলেও ট্রাম্প জানান, তিনি নির্বাচন ভেবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। উপরন্তু তিনি বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো সময় পুনরায় হামলা চালাতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন, কারণ মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে ইরান কোনো পদক্ষেপই নিতে পারছে না।

সামরিক হামলার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করার এবং তেহরানের বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানে সরকার পতনই মূল লক্ষ্য- নেতানিয়াহু: ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এখন ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যপূরণ এখন নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার তেল আবিবে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।

তেল আবিবে প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরে আইডিএফ জেনারেল স্টাফ ফোরামের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এবং সেনাপ্রধান এজাল জামির। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘এই সরকার এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল এবং টিকে থাকার লড়াই করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই হুমকি চিরতরে দূর করার ব্যাপারে আমি আস্থাশীল অন্য কথায়, এই সরকারকে উৎখাত করা। এটিই আমাদের সামনে থাকা মূল দায়িত্ব এবং তা অত্যন্ত সন্নিকটে। এটি অসম্ভব কিছু নয়, বরং নাগালের মধ্যেই রয়েছে।’

ইসরাইলের শত্রুদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন না। আপনাদের পরাস্ত করার মতো সামরিক সক্ষমতা, সংকল্প এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য আমাদের রয়েছে।’ এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরান যদি ইসরাইলে আক্রমণ চালায়, তবে দেশটির জ্বালানিসহ সব ধরনের অবকাঠামো নিশানা করে হামলা চালানো হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ বন্ধ না করলে আমরা তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলব না।’ অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট চলতি সপ্তাহে মন্তব্য করেছেন, ইরানের ওপর চালানো অর্থনৈতিক চাপের ফল আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হতে পারে।

ইরানকে একঘরে করতে সাহায্য করবে চীন- জেডি ভ্যান্স: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতির কাছাকাছি পর্যায়ে ফিরে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর থেকে তেহরান কার্যকরভাবে তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, 'আপনি যদি তিন মাস আগের দিকে তাকান, তবে ইরানি হুমকির মুখে এই প্রণালী দিয়ে কী পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল? তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। আর এখন, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতিতে প্রায় সবই ফিরে এসেছে।'

ভ্যান্স বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে শেষ হয়ে গেছে এবং জাহাজগুলোতে আক্রমণ বন্ধ না করা পর্যন্ত আমেরিকা তেহরানের সাথে কোনো সংলাপে বসবে না।

তিনি আরও জানান, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এবং ঐতিহাসিকভাবেই ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ফলে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কাছে বেইজিং এক মূল অনুঘটক।

ভ্যান্স জানান, দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কথিত হামলার বিষয়ে আমেরিকা তদন্ত পরিচালনা করছে। এ হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

গত মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন উপকূলীয় শহর কুহেসতাকে এই বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে এবং আক্রমণটিকে একটি "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে তেহরানের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও ভ্যান্স বলেন, 'আমি জানি যে আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।আমি বলব যে, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যা যা ঘটেছে, সে সম্পর্কে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খুব একটা নির্ভরযোগ্য বা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তাই এই বিষয়ে আমি অত্যন্ত সংশয়ী।'

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই কথিত হামলার ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে জানিয়েছে 'মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।'

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অব্যাহত উত্তেজনার আবহেই এ ঘটনাগুলো ঘটল। এপ্রিলের একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তীব্র লড়াইয়ের প্রথম পর্যায়ের অবসান ঘটলেও, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও হামলা বন্ধ হয়নি।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন