নতুন বিশ্ব মানচিত্রের অনুমোদন দিল জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩১
বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সঠিক ও আনুপাতিকভাবে তুলে ধরতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামের একটি নতুন বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বহুল ব্যবহৃত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ মানচিত্রের ভৌগোলিক বিকৃতি দূর করাই এই নতুন মানচিত্র গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৬৪ দেশ। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় এবং ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে টোগো। তাদের যুক্তি ছিল, ১৬শ শতক থেকে চলে আসা মার্কেটর প্রজেকশনের মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের ভূখণ্ডগুলোকে বিশালাকার করে দেখানো হলেও আফ্রিকাকে তুলনামূলক অনেক ছোট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা মহাদেশকে প্রায় একই আকারের মনে হলেও বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
আফ্রিকান দেশগুলোর মতে, মানচিত্রের এই বৈষম্যের কারণে বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকা মহাদেশকে তুলনামূলক ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। ভোটাভুটির আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে বলেন, একটি ন্যায়সংগত বিশ্ব গড়ার প্রথম পদক্ষেপ হলো একটি ‘সঠিক ও ন্যায়সংগত মানচিত্র।’
‘ইকুয়াল আর্’' প্রজেকশনের মানচিত্রে বিশ্বের সকল ভূখণ্ডের অনুপাত নির্ভুলভাবে প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের এই প্রস্তাবটি কোনো দেশের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, সমুদ্র ও আকাশপথে চলাচলের সুবিধার্থে সঠিক দিকনির্ণয়ের জন্য মার্কেটর প্রজেকশন মানচিত্রের যে বিশেষ কার্যকারিতা রয়েছে, তা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এ ধরনের উদ্যোগ একটি “আদর্শিক এজেন্ডা” দ্বারা চালিত। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে দাবি করেছে দেশটি।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

