# বিক্ষোভ ঠেকাতে যন্তর মন্তরে লকডাউন
# কাল বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের
# মমতা, কেজরিওয়াল, তুষার গান্ধী, দীপকে, নেহা বোরা, ধ্রুব রাঠিসহ বহু নেতা আটক
# সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবীসহ ৩৩০০ বিক্ষোভকারীও আটক
# জ্ঞানেশের বিদায় ও মোদির পতন হবে: রাহুল গান্ধী
# আটকদের অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার অভিযোগ
# ইন্টারনেট ও ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ
# দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, মাঠে ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি, সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতিসহ অন্যান্য সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লি।
পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে বিমানবন্দর থেকেই আটকের পর এবার দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এআইএসএ-র নেত্রী নেহা বোরাসহ আরও বহু নেতাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও তার বাসভবন থেকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার ডাকা এই বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ, ২৪৫টি ট্রেন বাতিল এবং মধ্য দিল্লিতে মুঠোফোনে ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করাসহ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।
বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের: মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় এবার দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। গতকাল আলপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানান, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আগামী সোমবার রাজধানী দিল্লিতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এই ইস্যুতে ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি, আগামী সোমবারে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও তাদের দেখা করার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তীব্র সমালোচনা করেন বেণুগোপাল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার এই প্রক্রিয়াই মোদি ও শাহের পতনের কারণ হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তিনি পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। বিরোধীদের আন্দোলনকে তিনি ভয় পাচ্ছেন। ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষিত শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে রীতিমতো লকডাউন জারি করেছে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেট্রো স্টেশন ও সারা দেশের সঙ্গে দিল্লির রেল যোগাযোগ। মাঠে নামানো হয়েছে হাজার হাজার সশস্ত্র পুলিশ সদস্য।
একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোট লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান এই নেতা। কেরালার ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে দলের সতর্ক নজরদারির কথা উল্লেখ করেন কে সি বেণুগোপাল। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের প্যাডে বিজেপির ‘পদ্ম’ প্রতীক ফুটে ওঠার মতো সাম্প্রতিক বিতর্কের দিকেও তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে, সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাসার সামনে থেকেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। এর আগে আটক হন ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া অন্তত ২০০ বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটকে দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা সবাইকে দিল্লি হাটের দিকে মার্চ করার আহ্বান জানান। এর মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) এমপি সাকেত গোখলে জানান যে, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বেশ কয়েকজন টিএমসি নেতাকে দিল্লির বাসভবনের বাইরে থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
এর আগে গতকাল সকালে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বিমান থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির শীর্ষ তিন নেতা—অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে বিমান থেকেই আটক করে দিল্লি পুলিশ। তবে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। পরে সিজেপির পক্ষ থেকে এক ভিডিও বার্তায় জানানো হয় যে অজিনক্য শিন্ডে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন।
ইউটিউবে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ফলোয়ার থাকা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর নিজ বাসা থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ধ্রুব রাঠীকে এই সমাবেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এ ছাড়া দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ সিপিআই(এম)-এর বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে। এমনকি পাঞ্জাবের চণ্ডীগড় থেকেও আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা মনীশ সিসোদিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সিজেপি বলেছে, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই নেতৃত্বকে অকার্যকর করে দিতে দিল্লি পুলিশ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের আটক করেছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ভণ্ডুল করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ দলটির। এ ঘটনা চলাচলের স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। দলটি অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
আটকদের অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার অভিযোগ: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যোগ দিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে লোকজনকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে কঠোর ব্যারিকেড দেওয়া সড়ক দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতে একটি বাসকে যেতে দেখা যায়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ায় যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ, কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রাজধানীগামী বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
সিজেপি জানিয়েছে, দলের নেতারা আটক হলেও বিক্ষোভ চলবে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, মাঠে ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী: এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচি ভেস্তে দিতে ৩০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। রয়টার্স লিখেছে, শনিবার দিল্লির কেন্দ্রস্থলে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে মেট্রো স্টেশন, মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ও বাজার। বিবিসি লিখেছে, বিক্ষোভ সামলাতে রাজধানীজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়। প্রতিবাদ কর্মসূচি ভেস্তে দিতে শহরের প্রধান সড়কে মোতায়েন করা হয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য। সমাবেশস্থল ‘যন্তর মন্তর’ -এর সবকটি প্রবেশপথে লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে কেবল সড়ক নয়, যাতায়াত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়। ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে ঢোকা ও বের হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত সমাবেশস্থল ঘিরে চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জ্ঞানেশের বিদায় ও মোদির পতন হবে- রাহুল গান্ধী: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন ঘটবে। তারপরই ভারতে গণতন্ত্রের মেরামত শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। গতকাল সামাজিক মাধ্যম এক্সে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এমপিদের উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার ও এই সরকার উভয়কেই বিদায় নিতে হবে, তবেই দেশে গণতন্ত্র আবার ফিরে আসবে।’
গত শুক্রবার সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও সংকটটি অনেক বড় এবং এর মূল সমাধান লুকিয়ে আছে বর্তমান সরকারের পতনের মধ্যে। বিরোধী দলগুলো যদি গত কয়েক দিনের মতো ঐক্যবদ্ধ চাপ ধরে রাখতে পারে, তবে এ সরকারের বিদায় নিশ্চিত।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও অনেক গভীর সমস্যা আছে। এর জন্য বর্তমান সরকারের পতন প্রয়োজন।’ এটি এমন বিষয় যার জন্য লড়াই করা যায়, জীবন দেওয়া যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি গত তিন-চার দিনে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছি, তা বজায় রাখি, তাহলে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি এই সরকার পড়ে যাবে।’ তিনি দাবি করেন, বিরোধীদের এই প্রতিবাদ সরকারের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। সরকার এখন ভীতসন্ত্রস্ত। ‘সব ট্রেন বন্ধ, ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, গণগ্রেপ্তার, লকডাউনে পরিণত হয়েছে দিল্লি, মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ। মোদি-শাহ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। একজন একনায়কের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহকে অত্যন্ত নির্মম ও দমনমূলক কায়দায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে সরকারের কড়া নিরাপত্তা ও দিল্লিজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘মোদি-শাহ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।’
এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীজুড়ে অন্তত ৩০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে শনিবারের এই সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কথা জানান। একই সঙ্গে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
ভোটার তালিকা সংশোধনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এর আগে গত ২ অক্টোবর মুম্বাইতে বিক্ষোভ করেছিল সিজেপি। সেই ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে এই নতুন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ আয়োজনের প্রয়োজনীয় অনুমতি আয়োজকদের ছিল না এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর নির্বাচন কমিশনে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, গত ১০ মাসে এসআইআর কার্যক্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতির বিষয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এনডিএ এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যকার প্রাপ্ত ভোটের সামান্য ব্যবধানের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকায় এমন বড় ধরনের পরিবর্তন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে।
যন্তর মন্তরে হতে যাওয়া বিক্ষোভের একদিন আগে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শুক্রবারে বিজয় চকে ব্যারিকেড বসিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি, ভোটার তালিকার এসআইআরের সমস্ত বড় সিদ্ধান্ত পুরো কমিশনের সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল।
কর্মসূচিকে সামনে রেখে যন্তর মন্তর এবং সেখানে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি যন্তর মন্তরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর তিনটি প্রধান প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টে লাউডস্পিকারে হিন্দি ও ইংরেজিতে ঘোষণা দিয়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার অধীনে সমাবেশ, মিছিল ও সড়ক অবরোধের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের সম্ভাব্য জমায়েত নিয়ন্ত্রণে তাদের নিজস্ব ১৫ হাজারের বেশি সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ২৬ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নজিরবিহীন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে দিল্লির সার্বিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান ফটক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া ন্যামো ভারত ট্রেনের সরাই কালে খাঁ ও নিউ অশোক নগর স্টেশন দুটিও ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কায় গতকাল ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর নির্ধারিত সব মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের শুরুর স্টেশন থেকেই বাতিল করেছে ভারতীয় রেলওয়ে। পাশাপাশি আবগারি দপ্তরের নির্দেশনায় ৯ ও ১০ অক্টোবর পুরো দিল্লিতে বিভিন্ন দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে।

