Logo

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ এখন থেকে শুরু : ট্রাম্প

Icon

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ এখন থেকে শুরু : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি তিনি একবার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে এসেছেন।

শপথের আগে ট্রাম্প ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একসঙ্গে একটি লিমোজিনে চড়ে হোয়াইট হাউস থেকে ক্যাপিটল হিলে পৌঁছান। শপথ অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প তার উদ্বোধনী ভাষণ দেন। শুরুতে তিনি মঞ্চে উপস্থিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ বুশ, বারাক ওবামা ও বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন এই অঙ্গীকার দিয়ে যে, ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ এখন থেকেই শুরু হচ্ছে। এখন থেকে সামনের দিনগুলোয় আমাদের দেশ আরো সমৃদ্ধ আর সম্মানজনক অবস্থানে উঠে আসবে। আমার একমাত্র লক্ষ্য হবে, আমেরিকা ফার্স্ট।’

যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করা হবে। আমাদের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা হবে। পুনরায় ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা হব। আমরা একটি গর্বিত, সমৃদ্ধশালী ও স্বাধীন জাতি তৈরির লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে, আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করবেন।

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সাথে যে ‘লাখ লাখ অপরাধী’ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তারা যেখান থেকে এসেছে, সেখানে ফেরত পাঠানো হবে।

এর আগে, ক্রিস্টোফার ম্যাকিওর ‘ওহ, আমেরিকা’ গানের মধ্য দিয়ে শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিরাও। ছিলেন বিদায়ী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন, সেকেন্ড জেন্টলম্যান ডগ এমহফসহ বিদায়ী প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্তানেরা— ইভানকা ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, টিফানি ট্রাম্প, এরিক ট্রাম্প ও ব্যারন ট্রাম্প উপস্থিত হন। সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতিও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রধান হিসেবে রবার্ট এফ কেনেডি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনোনীত প্রধান ক্রিস্টি নোম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মনোনীত মার্কো রুবিওসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠান যখন চলছিল, তখন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসও ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ন্যান্সি রিগানের ডিজাইন করা একটি কার্পেট ফিরিয়ে আনা হয় সেখানে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এটি ব্যবহার করেছিলেন।

ট্রাম্প দিনটি শুরু করেছিলেন সোমবার সকাল ৯টার ঠিক আগে লাফায়েট স্কোয়ারের একটি চার্চ সেবায় অংশ নিয়ে। যেখানে তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি সকাল ১০টার দিকে হোয়াইট হাউসে পৌঁছান ও বাইডেন পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারপর সবাই ক্যাপিটলের দিকে রওনা দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শনিবার থেকেই শুরু হয়েছিল। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান তীব্র ঠান্ডার কারণে ক্যাপিটল রোটন্ডায় অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২ মিনিটে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শপথ বাক্য পাঠ করান। যেখানে ট্রাম্প তার স্ত্রী মেলানিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ শেষে তিনি মেলানিয়ার গালে চুম্বন করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানান।

এর আগে, দুপুর ১২টায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শপথ গ্রহণ করেন। বিচারপতি ব্রেট কাভানাঘ শপথ বাক্য পাঠ করান।

সেনেটর অ্যামি ক্লোবাচার উদ্বোধনী বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠান আমাদের গণতন্ত্রের ২৫০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি এমন মুহূর্ত, যখন নেতারা জনগণের ইচ্ছার মাধ্যমে ক্ষমতায় উঠে আমাদের সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

সেনেটর ডেব ফিশার উল্লেখ করেন, ‘আমেরিকানরা আবারও এই জাতিকে মহত্ত্বের দিকে পরিচালিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট ট্রাম্প প্রশাসনে পরিবর্তিত হয়। শপথ গ্রহণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট বাইডেন প্রশাসন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনে রূপান্তরিত হয়।

ওএফ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর