মেক্সিকো সীমান্তে মার্কিন সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:৩৪
-678f31efd779f.jpg)
ছবি : সংগৃহীত
টেক্সাসের এল পাসো ক্রসিংয়ে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে মার্কিন সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ট্রাম্পের অভিষেকের এক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর এল পাসোর সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পরপরই এল পাসো সীমান্ত ক্রসিংয়ে লাউডস্পিকারে শোনা যায়, ‘এই পয়েন্ট অতিক্রম করার ফলে গ্রেপ্তার, বিচার এবং সম্ভাব্য শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’
সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প সীমান্ত সম্পর্কিত ১১টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে যার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাবে দেশটি। যার মধ্যে সীমান্ত ক্রসিংটি সুরক্ষিত করার জন্য সীমান্তে মার্কিন সেনা মোতায়েনের অনুমোদন রয়েছে।
আরেকটি আদেশে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধী গোষ্ঠী ও সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে মনোনীত করা হবে এবং একটি অতিরিক্ত আদেশে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স বিভাগকে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। এই সীমান্ত দেয়াল ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে শুরু করেছিলেন এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কর্মী মোতায়েন করেছিলেন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) সিবিপি ওয়ান অ্যাপ্লিকেশনটির ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে যা অভিবাসীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করা হতো।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মেক্সিকোতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার অভিবাসী সময় নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য, সিবিপি ওয়ান অ্যাপটি ২০২০ সালের অক্টোবরে চালু হয়েছিল এবং সিবিএস অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য এটি ব্যবহার করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, তার প্রথম মেয়াদে বাস্তবায়িত নীতিগুলো, যেমন 'রিমেইন ইন মেক্সিকো' (যে নীতি অনুযায়ী আশ্রয় প্রার্থীকে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত মেক্সিকোতে থাকতে হত) পুনরায় কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান ‘ক্যাচ-অ্যান্ড-রিলিজ’ নীতি, যার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের অভিবাসন শুনানির জন্য অপেক্ষা করার সময় মুক্তি দেওয়া হয়, তা বন্ধ করা হবে।
তার উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘সব ধরনের অবৈধ প্রবেশ অবিলম্বে বন্ধ করা হবে এবং লাখ লাখ অপরাধী বহিরাগতকে তারা যে জায়গা থেকে এসেছে সেখানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবো আমরা।’
এদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ক্র্যাকডাউনকে সমর্থন করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপদ করতে এবং সব আমেরিকানের জন্য একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে টেক্সাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছে।’
এসবি