অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৩

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব অবৈধ অভিবাসন ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিসরি জানান, উভয় নেতা শিক্ষার্থী, পেশাদার ও স্বল্পমেয়াদী দর্শনার্থীদের জন্য বৈধ চলাচলের সুযোগ সহজতর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসীভাবে’ ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছেন।
মিসরি বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে, ভারতের শিক্ষাখাতে যে সংস্কার করা হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে ভারতের মধ্যে মার্কিন প্রিমিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপন করা যেতে পারে। তারা শিক্ষার্থী ও পেশাদারদের জন্য বৈধ চলাচলের সুযোগ সহজতর করা এবং স্বল্পমেয়াদী পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারকে কঠোরভাবে দমন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষই এমন উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা জননিরাপত্তা, কূটনৈতিক নিরাপত্তা এবং উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলে। আইন প্রয়োগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিসরির এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০০-এর বেশি ভারতীয় নাগরিকের বিতাড়নের মধ্যে। ৫ ফেব্রুয়ারি একটি মার্কিন এয়ারফোর্সের বিমান বহিষ্কৃতদের নিয়ে ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে পৌঁছায়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, অবৈধভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরানো প্রতিটি দেশের দায়িত্ব। ভারত সরকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রে বিতাড়িতদের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের সারসংক্ষেপ দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রসচিব মিসরি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসী গাবার্ড, ইলন মাস্ক ও বিবেক রামাস্বামীও ছিলেন।
হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ব্যাপক চার ঘণ্টার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে কৌশলগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- কৌশলী ইমা/এমজে