প্রেমিকাকে ধর্ষণের দায়ে প্রেমিকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৯
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর কাফরুল এলাকায় প্রেমিকাকে ধর্ষণের দায়ে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সাজার পাশাপাশি তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিমকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও ভিকটিম পূর্বপরিচিত ছিলেন। ঘটনার ১১ মাস আগে ভিকটিমের স্বামীর মৃত্যু হয়। পূর্বপরিচয়ের সুবাদে আসামি ভিকটিমের বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুর এলাকার একটি বাসায় আসামি ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। পরে ভিকটিম আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানাতে চাইলে আসামি তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। এরপর বিভিন্ন সময় ভিকটিমের বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করতে থাকেন।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি আবার ভিকটিমের বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এতে ভিকটিম দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জানালে আসামি টালবাহানা করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভিকটিম প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ২৫ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকলিমা আক্তার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া ভিকটিমের নবজাতক ছেলে সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, শিশুটি আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সন্তান।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতে নেওয়া হবে। ওই সম্পত্তি থেকে ভিকটিমের ছেলের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হবে। ভিকটিমের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণ দেওয়া হবে। তবে আসামির সম্পত্তি থেকে এ ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র তা বহন করবে।
মামলার বিচারকালে ট্রাইব্যুনাল পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
এএস/

