Logo

আইন ও বিচার

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক :

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১৭:২৭

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল

সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর অভিযান-সংক্রান্ত কথিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে করা তার জামিন আবেদন গ্রহণ করেননি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার আদালতে বলেন, তার মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন এবং তার হার্টে সাতটি ব্লক ধরা পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জামিন চান। পাশাপাশি তিনি জানান, ঘটনার সময় আবদুল জলিল ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও ওই ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে জানায়, উপস্থাপিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন নয়। উদাহরণ হিসেবে আদালত উল্লেখ করে, আরও গুরুতর হার্ট সমস্যার মধ্যেও অনেকেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

শুনানির এক পর্যায়ে আইনজীবী জানান, আদালত অনুমতি দিলে তার মক্কেল মামলার তদন্ত ও বিচারকার্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে রাজসাক্ষী হতেও রাজি। তবে এসব যুক্তি সত্ত্বেও জামিন আবেদনটি আমলে নেয়নি ট্রাইব্যুনাল।

আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আবদুল জলিল কখনও দেশত্যাগ করেননি এবং নিজ বাসা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এর আগে গত ৩০ মার্চ রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ৩১ মার্চ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনালের একক বেঞ্চ।

২০১৩ সালের ওই ঘটনার সময় আবদুল জলিল মণ্ডল ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

মামলাটির অগ্রগতি এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না- তা এখন ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন