অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্র: ৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জন রিমান্ডে
আইন ও আদালত ডেস্ক :
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ২০:০৪
সংগৃহীত
অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা এবং অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচারের অভিযোগে ৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই রেজাউল করিম।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন— এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল কারিম (২৮)। এছাড়া রোকন উদ্দিন নামে আরেক আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
এর আগে বুধবার রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার টিম দক্ষিণ বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. রাশেদুল ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তারা প্রয়োজনে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও জানান। রোকন উদ্দিনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তিনি ঠিকমতো কথা বলতে ও গিলতে পারেন না। শুনানি শেষে আদালত আট আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং রোকন উদ্দিনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণা চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।
তিনি জানান, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ-নগদের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব প্ল্যাটফর্মে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল।
অভিযানে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানার রুপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট তিনটি জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, একটি ৮-পোর্ট ও একটি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট, এনআইডি এবং একটি টয়োটা মাইক্রোবাস।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের উপ-পরিদর্শক সুব্রত দাশ রমনা মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

