Logo

আইন ও বিচার

রামিসা হত্যা মামলা: এক সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন আইনমন্ত্রী

Icon

আইন ও আদালত ডেস্ক :

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১৯:৩৩

রামিসা হত্যা মামলা: এক সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন আইনমন্ত্রী

সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।  তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার জবাব হবে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।

সম্প্রতি আলোচিত আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ার বিষয় তুলে ধরে সাংবাদিকরা জানতে চান, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নতুন অপরাধকে উৎসাহিত করছে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আসিয়ার বাবার হতাশা ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে এসেছে। তবে সরকার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আসিয়ার ঘটনায় সাত দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল এবং এক মাসের মধ্যেই বিচার শেষ হয়। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করতে গেলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগে পেপার বুক প্রস্তুতের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অনেক সময় বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ব্যতিক্রম করার নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলা এবং আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়েছিল। রামিসা ও আসিয়ার মামলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, “আজ অফিসে এসে প্রথমেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছি। বলেছি, এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, রামিসার বাবার হতাশার যথাযথ জবাব হবে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আসিয়ার মামলাটি সরকারের কাছে একটি উদাহরণ। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।

রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি সরকারের হাতে নয়; বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তবে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রসিকিউটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই মামলাটির বিচার হবে।

দেশে বিচারজট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মামলা রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়, তবে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, ধর্ষণ মামলা কোনোভাবেই রাজনৈতিক মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং এ ধরনের মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় রাখা হবে না।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন