৬ বছর পর ৩০ লাখ টাকা ও মাসিক শিক্ষা ভাতা ক্ষতিপূরণ পেল হাত হারানো সেই নাহিদ
আইন ও আদালত ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৭
সংগৃহীত
দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার কিশোর নাঈম হাসান নাহিদ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। পাশাপাশি তার পড়ালেখার জন্য এইচএসসি পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার নির্দেশও বহাল রয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাজী ইয়াকুব নাহিদের হাতে ১৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। এর আগে দুই দফায় আরও ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। ফলে আদালতের নির্দেশিত মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণভাবে বুঝে পেল নাহিদ।
নাহিদের পক্ষে শুনানি করা ব্যারিস্টার ওমর ফারুক সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায় বাস্তবায়িত হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নাহিদ এইচএসসি পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতাও পাবে।
এর আগে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না করায় গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কারখানার মালিক হাজী ইয়াকুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।
পরে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে নাহিদের জন্য ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করার নির্দেশ বহাল রাখেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে বলেন, ক্ষতিপূরণের ১৫ লাখ টাকা এপ্রিলের মধ্যে এবং বাকি ১৫ লাখ টাকা ডিসেম্বরের মধ্যে ফিক্সড ডিপোজিট করতে হবে। নাহিদ ১০ বছর পর ওই অর্থ উত্তোলন করতে পারবে। একইসঙ্গে এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতা দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত।
বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও অ্যাডভোকেট মো. বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তামজিদ হাসান।
যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই
২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে নাহিদের দুর্ঘটনার বিষয়টি সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন নাহিদের বয়স ছিল ১০ বছর এবং সে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। করোনা মহামারির সময় তার বাবা আনোয়ার হোসেন কর্মহীন হয়ে পড়লে পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় তাকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে পাঠানো হয়।
কাজ করার সময় একটি মেশিনে তার ডান হাত আটকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়।
ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নাহিদের বাবা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট শিশুটিকে কেন দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন আদালত।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ে নাহিদ ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষা ব্যয়ের জন্য মাসিক ভাতা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হয়। সর্বশেষ সোমবার ক্ষতিপূরণের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সেই রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলো।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

