চিফ প্রসিকিউটর
কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতা ঘটাতে পারে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৬
# গুমের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত হচ্ছে
# অপরাধীদের বন্ধু ভাবার কারণ নেই, ছোবল মারতে পারে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করার কথা জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা সন্দেহজনক লেগেছে। তাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন। তিনি বলেন, জানান, গুমের মামলাগুলোর তদন্ত আগের তুলনায় আরও গতিশীল হয়েছে। পাশাপাশি গুমের শিকার পরিবারগুলোর জবানবন্দি গ্রহণ ও অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা (অপরাধী) তাদের মতো করেই কিন্তু যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে যারা নিরাপত্তার কাজ করেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তারা তাদের সতর্ক করেছেন। কিছু কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা তাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু কিছু গোপন তথ্য তাদের (প্রসিকিউশন) কাছে আছে যে তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটেজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।
এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে কাজ করছেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এই আইনের মাধ্যমে সারা দেশে গুমের বিচার হয়তো অন্য মাত্রার একটা গতি পাবে। যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তারা অত্যন্ত শক্তিশালী। সেটা মাথায় রেখেই তাঁরা (প্রসিকিউশন) নিজেরা সতর্ক আছেন। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য তারা অনুরোধ জানাচ্ছেন। সরকারের কাছে তারা এই বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।
এক সপ্তাহ ধরে ‘স্যাবোটাজ’ শব্দটা একটু বেশি আসছে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে প্রতিটা কর্মকাণ্ড, প্রতিটা জিনিস তাদের নজরদারিতে আছে। সে কারণে কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে। এ রকম কোনো দুষ্টুচিন্তা কারও মনের মধ্যে যদি থাকে, কোনো অপরাধী যদি অন্য কোনো বিষয় চিন্তা করেন, এটা তাঁদের জন্য আত্মঘাতী বিষয় হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারাদেশে ২৫১ জনের গুম হওয়ার ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এসব ঘটনা ‘ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা’ (ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা একে একে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিচ্ছেন। ফলে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ভাষ্য, গুমের ঘটনায় অভিযুক্তদের কখনোই নিরাপদ বা নিরীহ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তারা যেকোনো সময় ভুক্তভোগী পরিবার, সাক্ষী কিংবা তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে গুমের ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে এসব ঘটনাকে ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৫১ জন গুমের শিকার হয়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকের ঘটনার পেছনে একই ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য বারবার উঠে আসছে।
আমিনুল ইসলামের দাবি, গুমের ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেই কিছু অভিযুক্তের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুমের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আজ গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা আসেন। তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত সংস্থা। আজ চিফ প্রসিকিউটর ব্রিফিং করার সময় এই ৫৫ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই পরিবারগুলোর অভিযোগের তদন্ত যখনই শুরু হয়েছে, কিছু কিছু অপরাধীদের তৎপরতাও কিন্তু বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার চলছে, যাদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের লক্ষ রাখার প্রয়োজন আছে। গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের প্রতি লক্ষ রাখার বিষয় আছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়।
সরকারকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবার যারা আছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে বলছেন তারা। বিশেষ করে এই তদন্ত যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। কোনোভাবে যাতে কোনো ‘স্যাবোটাজ’ করে তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা কেউ সৃষ্টি করতে না পারে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

